বঙ্গবন্ধুর কথা বলতেই ক্ষেপে গেলেন শিক্ষা অফিসার

স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে কথা বলার সময় অসদাচরনের শিকার হয়েছেন লালমনিরহাটের প্রবীণ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম। উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার যোগেন্দ্র নাথ সেন এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটান। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন।
গত সোমবার দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের দলগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণকিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানাগেছে, প্রবীণ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে প্রতিদিন উপজেলার স্কুলে গুলোতে যান। গত সোমবার দুপুরে কৃষ্ণকিশোর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলছিলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার স্কুল পরিদর্শনে আসেন। সহকারী শিক্ষা অফিসার যোগেন্দ্র নাথ সেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করে্ন। এ সময় সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি কৈফিয়ৎ তলবের ভঙ্গিতে সাংবাদিককে বলেন, ‘লেখাপড়ার সময় ডিস্টার্ব করা তো ঠিক হচ্ছেনা!’
সাংবাদিক আলীম জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধান শিক্ষকের অনুমতিসাপেক্ষে তিনি টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের সাথে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ নিয়ে কথা বলছিলেন। এটি মনে করিয়ে দিলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন বলেন, ‘এসব কি হচ্ছে?’ বঙ্গবন্ধু কি? তার বিষয় কথা বলতে হবে।

মুজিববর্ষে শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কথা বলার সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের এই অসৌজন্যমূলক আচরনে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা হতবিহ্বল হয়ে পরে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ভোলানাথ রায় ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন।

শিক্ষা অফিসারের এই অসদাচারনের ধৃষ্টতা সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসানকে জানালে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে প্রবীণ সাংবাদিকের সাথে এমন আচরণে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রেসক্লাব লালমনিরহাট ও জেলার কর্মরত সকল সাংবাদিক তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সুষ্ঠ তদন্তসাপেক্ষে দোষী কর্মকর্তার বিচার দাবী করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *