ঘর বাঁধার স্বপ্নে সন্তানসহ ভারতীয় নারী বাংলাদেশে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ২৮.০৮.২০
ঘর বাঁধার স্বপ্নে ভারতীয় এক নারী তার তিন বছরের ছেলে সন্তান নিয়ে এখন বাংলাদেশে তার প্রেমিকের বাড়ীতে অবস্থান করছে। ভারতীয় ঐ নারীর নাম শ্রীমতি সুনিয়া সাউ (২৯)। তার বাড়ি ভারতের ব্লাশপুর ছত্রিশগড় রাজ্যের মঙ্গলী জেলার জোড়াগাও থানার মৃত ফাগুরাম সাউ ও রাজকুমারী দম্পতির মেয়ে। একই রাজ্যর ধনউড়া এলাকার রহিত শর্মার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,গত ২৫ জুলাই দুই দেশের দালালের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসে সন্তান নিয়ে ভারতীয় নারী শ্রীমতি সুনিয়া সাউ। স্থানীয়দের চােখের আড়ালে গত এক মাস ধরে প্রেমিক ওবাইদুল হক (৩৫) এর বাড়ীত ঘর-সংসার করছেন তিনি । প্রেমিক ওবাইদুল হকের বাড়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজলার সীমান্ত ঘেঁষা কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর চানদালার পাড় গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবুল কাসেম আলীর ছেলে।
ভারতীয় নারী শ্রীমতি সুনিয়া সাউ জানা, প্রেম করে চার বছর আগেই ভারতের দিল্লীতে আমরা বিয়ে করেছি। আমি জন্মভুমি ও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে বাংলাদেশে আমার স্বামীর বাড়ীতে এসেছি। আমার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাই আমি এখানই ঘর-সংসার করতে চাই।
স্থানীয় আফজাল হােসেন (৬৫), মতিয়ার রহমান (৬৫), আব্দুল ছাত্তার (৫৫) ও সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রথম স্ত্রী কল্পনা বেগম স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিয়ে ঘর-সংসার করে আসছিল কয়েকদিন ধরে প্রথম স্ত্রী কল্পনা বেগমের সাথে ওবাইদুল হক সঙ্গে ঝগড়াঝাটি হওয়ার কারণে ভারতীয় নারীকে বিয়ের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তারা আরও জানান, ওবাইদুল হক ভারতে গিয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ করত। সেই সুবাদে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড় উঠে। পরে তারা চার বছর আগেই ভারতের দিল্লী শহরে বিয়ে করে। তাদের ঘরে একটি তিন বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। সেই সন্তানসহ ওই নারী এক মাস আগে সীমান্ত পেরিয়ে স্বামী ওবাইদুল হকের বাড়ীতে চলে আসে।
স্বামী ওবাইদুল হক প্রেম করে ভারতীয় নারীকে বিয়ের কথা শিকার করে জানান, আমি বৈধ ভাবে ভারতে তাকে বিয়ে করেছি। সে বর্তমান আমার সাথে বাড়ীতেই রয়েছ।
লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এসএন তৌহিদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ভারতীয় ওই নারী বাংলাদেশেে প্রবেশের বৈধ কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। শুধুমাত্র ভারতীয় পরিচয় পত্র রয়েছে। সে দোভাষী। তাকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক করে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হবে। এছাড়াও বিএসএফকে অবগত করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপার ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবি সদস্যরা সহযােগীতা চাইল দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *