হেরে যাওয়া ভালোবাসা

শিপন মাহমুদ

আমি লিমন আমার বাড়ি মফস্বল শহরে, এখানে সেরকম ঝলকানো কোন বৈদ্যতিক কোন বাতি নেই। আমি ডিগ্রি ১ম বর্ষতে পড়াশোনা করি। ছাত্র হিসেবে খারাপ ছিলাম না,অভাবের তারণায় ভালো কোন কলেজে পড়তে পারি নাই। রাতের অন্দকারে দোয়াত(এক জাতীয় বাতি) জ্বালিয়ে পড়াশোনা করেছি।এর মাঝে আমি আমার এলাকার এক চাচার দোকানে বসতাম। আমাকে মাসিক ২০০০টাকা করে বেতন দিত। তা দিয়ে কিছু টাকা নিজে রাখতাম আর কিছু টাকা বাড়িতে দিতাম।হঠাৎ আমার এক চাচি তার ফোনটি চার্জ করার জন্য আমাকে দিয়ে বাজারে পাঠিয়ে দেয়। চার্জ করে কুমন্ত্রণায় হোক আর যেভাবেই হোক তার ফোন থেকে কিছু ফোন নম্বর চুরি করি।ওহ বলাই হয়নি আমার চাচি কিন্তু আমার থেকে দু ব্যাচ জুনিয়র।নম্বর নিয়ে একটা নম্বরে কথা বলে পরিচিত হলাম,তার মাঝে আমাদের গড়ে উঠল একটা বন্ধুত্ব।যাই হোক এভাবেই চলতে লাগলো কিছুদিন। ওহ আমার ওই চাচির বাড়ি কিন্তু আমাদের পাশের উপজেলায়,শীত মৌসুম শীতের পিঠা খেতে আমি আমার চাচার সাথে চাচার শশুর বাড়িতে গেলাম।সেখানে গিয়ে চাচির সেই বান্ধবী মৌ সাথে প্রথম সাক্ষাৎ।সেখান থেকেই শুরু ভালোলাগা কিভাবে বলব তা বুঝতে পারছি না। হঠাৎ ই বলে ফেললাম মৌ একটা কথা বলব,,
মৌঃজ্বী বলুন
লিমনঃআসলে কিভাবে বলি
মৌঃআরে বলুন না
লিমনঃআসলে আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি
মৌঃতাই নাকি,,আসলে
লিমনঃআসলে কী
মৌঃবলতে পারব না
লিমনঃবলোনা
মৌঃআমিও তোমার প্রেমে পড়ছি কিনা বলতে পারব না।তবে তোমাকে জেন কত যুগ যুগ থেকে চিনি।আর তোমার সাথে কথা না বললে কেমন জানি লাগে।

এই থেকেই শুরু,সেখান থেকে চলে আসলাম এর মাঝে আমাদের প্রতিনিয়ত কথা চলছে।হঠাৎ একদিন ওই আমারে বলছে,,এই কত দিন হয় তোমাকে দেখিনা কালকে আসতে পারবে।আমি বললাম হ্যাঁ আমারোতো মন চায়,কালকে যাবো কোথায় থাকবে।
মৌঃকলেজের কাছে সামাদ স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ি সেখানে এসে কল দিও। সঠিক সময়ে আসিও কিন্তু সকাল ১০টা মনে থাকবে কী।

লিমনঃহ্যাঁ মনে থাকবে
পরদিন সকাল সকাল চলে গেলাম সেই সামাদ স্যারের বাসার কাছে সেখানে গিয়ে দেখা,কথা বললাম। এর মাঝে ওর বান্ধবীরা বলছে,ভাইয়া মিষ্টি কিন্তু পেলাম না।আচ্ছা চলো আজ তোমাদের মিষ্টি খাওয়াবো,ওদের নিয়ে চলে গেলা স্মৃতি হোটেলে।সেখানে অনেক মজা হল আমি মৌ কে মিষ্টি খাওয়ালাম ও আমাকে ওই দিনের মত বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।
এভাবেই চলতে লাগলো তার কিছু দিন পর বেলা ১২.০০টার সময় আমাকে ম্যাসেজ করল,আমরা বান্ধবীরা মিলে রাভার ড্রামে বেড়াতে যাচ্ছি,হুটহাট করে বের হয়ে রওনা হলাম,রাভার ড্রাম আমার বাড়ি থেকে ৪০মিনিটের রাস্তা।ওই সময় রাভার ড্রামের রাস্তা নেই কাজ চলমান,তাই আমরা নৌকা নিয়ে গেলাম গুরে আসলাম রাভার ড্রাম।সেখানে ও আমার হাত ওর মাথায় রেখে শপথ করালো জেন ভূলে না যাই,নিজেও শপথ করলো।সেখান থেকে অনেক আড্ডা দিয়ে চলে আসলাম।এর মাঝে ওরে বিভিন্ন জায়গা থেকে দেখতে আসে তাই ওর পরিবার ওরে বিয়ের চাপ দিচ্ছে।পরে বিষয়টি আমার পরিবারকে বললাম জানালাম তারা রাজি হলোনা,ওর পরিবার কিছুটা রাজি ছিলো।এর মাঝে চলে আসলো ইউপি নির্বাচন ওর মা নির্বাচন করলো। নির্বাচনে ওর মা জয়ী হলো।এদিকে আমার পরিবারকে কিছুটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছি।আমার বাড়ি থেকে ওরে দেখতে গেলো পছন্দ হলো,,ওরাও দেখতে এলো পছন্দ হলো কিন্তু কিছু,কটু কথা আমাদের বিয়েটা আটকিয়ে দিলো,,একপর্যায়ে ওর পরিবার সিদ্ধান্ত নিলো সরকারী চাকরী ছাড়া মেয়েকে বিয়ে দিবে না।সরকারী চাকরীতো সহজ নয়,ইচ্ছে থাকলেও তো আর উপায় হয় না। আমার মনে হচ্ছে হেরে যাচ্ছি,আসলেই তাই হলো। তার ১৫/২০দিন পরেও ওরে বিয়ে দিয়ে দিলো।আমি হয়ে গেলাম যাযাবর।শিখলাম সিগারেট খাওয়া,মিশতে শুরু করলাম অসৎ সঙ্গে হয়ে গেলাম অপরাধী।মদ,গাঁজা,ইয়াবা, আরও কত কী খাওয়া শিখলাম।ওরে ভূলে থাকার জন্যই এসব তবুও কী ওরে ভূলে থাকতে পারি,না।ওর সাথে কোন কথা হয় না,,হয় না দেখা হঠাৎ প্রায় দুই বছর পর অচেনা একটা নাম্বার থেকে ফোন,,,

লিমনঃহ্যালো
অচেনা নম্বরঃকথা নেই
লিমনঃআবার হ্যালো হ্যালো কে বলছেন প্লিজ।
অচেনা নম্বরঃভাঙা গলায় হ্যালো

আমার উপর যেন আকাশ বেঙে পড়ল, দুই বছর পর মৌ কেন আমাকে ফোন করেছে,ভাবছিলাম ফোনটা কেটে দেই কিন্তু পারলাম না দায়বদ্ধতা থেকে।

লিমনঃভান করে,কে আপনি
মৌঃআমি মৌ,চিনতে পারছো
লিমনঃওহ আচ্ছা,কী বলো
মৌঃকেমন আছো
লিমনঃআছি,তুমি
মৌঃভালো,দিনকাল কেমন যাচ্ছে
লিমনঃযায় আর কী,তোমার
মৌঃভালো না গেলেও,ভালো রাখার একটা যন্ত্র আছে আমার।
লিমনঃকেমন যন্ত্রগো আমার মত শেষ হইছো নাকী।
মৌঃআরে না,তুমি যে ধংশ হয়ে গেছো সেটা কালকে মিথিলার কাছ থেকে শুনলাম,আসলে আমার একটা ছেলে হয়েছে।ওরে নিয়েই ব্যাস্ত থাকি।
লিমনঃওহহ তাহলে ছেলেও হয়েছে,নাম কী রাখছো।
মৌঃতোমার দেওয়া নাম আলিফ, তুমি আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করোনি কেন।
লিমনঃতুমি যদি আমারে ছেড়ে সুখে থাকতে পারো,তাহলে আমি বিরক্ত করব কেন।ওহহ তোমার স্বামী কেমন আছে।
মৌঃভালো ও তো মিশনে গেছে আফগানিস্থান,তুমি বিয়ে করে,ভালো হয়ে যাও।
লিমনঃসেটা কী সম্ভব
মৌঃহ্যাঁ সম্ভব,আসলে আমিও সুখে নেই।
লিমনঃতুমি সুখে নেই কেন?
মৌঃতোমাকে ছাড়া
লিমনঃসব মিথ্যে
মৌঃআরে না,তোমাকে এখনও কতটা ভালোবাসী তোমাকে বুঝাতে পারব না।
প্রতিটা জোস্না রাতে তোমার কথা ভেবে রাত কাটাই।
লিমনঃবেশি রাত করে গুমাইও না,শরীর খারাপ হয়ে যাবে।
মৌঃতুমি এখনও আমার কথা ভাবো
লিমনঃআরে না
মৌঃতাহলে,আমার শরীর খারাপ হবে তুমি চিন্তা করছো।
লিমনঃও কিছুনা,কোথায় তুমি
মৌঃআমাদের বাড়িতেই
লিমনঃতোমার মা কেমন আছে,কোথায় কী করে? সেদিন দেখলাম তোমাদের বাড়িটা বিল্ডিং হয়েছে।
মৌঃমা ভালো আছে,বাড়িতেই আছে।
লিমনঃআচ্ছা ভালো থেকো,আর ফোন করিও না,তোমার পরিবার জানলে প্রবলেম হবে।
মৌঃআচ্ছা তুমি ভালো হও,একটা বিয়ে করো
লিমনঃআগেরটা চেষ্টা করব,পরেরটা মনে হয় পারব না।
মৌঃকেন
লিমনঃআমার শরীরে বাসা বেঁধেছে সর্বনাসী ক্যান্সার
মৌঃবলো কী,মজা করছ
লিমনঃআরে না,ভালো থেকো আর আমাকে ক্ষমা করে দিও।
মৌঃহুম তুমিও আমাকে ক্ষমা করে দিও,আমার জন্যই তোমার এঅবস্থা
লিমনঃনাগো আমি আমার সঙ্গ দোষে এমন।ভালো থেকো,এখন ভালো লাগছে না।
মৌঃখুব খারাপ লাগছে কী
লিমনঃহ্যাঁ
মৌঃআচ্ছা ভালো থেকো,নিজের যত্ন নিও।

কথা বলা শেষ হতে না হতেই লিমন আর নেই এ পৃথিবীতে,লিমন হয়ে গেলো শেষ রেখে গেলো শুধু তার চাওয়া।করতে পারলো না তার ভালোবাসার সমাপ্তি।

লেখক শিপন মাহমুদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *