নাগেশ্বরীতে করোনাতেও থেমে নেই কিস্তির গাড়ি

নূর-ই-আলম সিদ্দিক,নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: নাগেশ্বরীতে করোনাতেও থেমে নেই এনজিও’র কিস্তির গাড়ি। এনজিও কর্মিরা ঋণ আদায়ে ছুটে ছলছে ঋণ গ্রহীতার বাড়ি বাড়ি। উপজেলায় ব্র্যাক, আরডিআরএস, টিএমএসএস, আশা, বুরো বাংলা, উদ্দীপন, গ্রামীণ ব্যাংকসহ স্থানীয় অনেক সমিতি সমবায় থেকে রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দৈনিক উপার্জনের টাকায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তি দিয়ে শোধ করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের সাধারন মানুষগুলো। কিন্তু করোনা আতঙ্কে রাস্তা ঠিক মত কাজ করতে না পারায় আয় নেই আগের মতো। এরই মধ্যে দিতে হয় কিস্তি পরিশোধ করার চাপ থাকায় বেসামাল হয়ে পরছেন এসব এনজিও থেকে ঋণ নেয়া সাধারণ শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের ঋণগ্রহীতারা। সম্প্রতি বিশ্বের অনেক দেশের মত এদেশেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ইতোমধ্যে এ ভা্ইরাসে আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন মারা গেছেন। দেশব্যাপী সর্তকর্তা জারি করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারী-বেসরকারীভাবে চালানো হচ্ছে প্রচারনা। ফলে এ মহুর্তে ঝুকি নিতে রাজি নয় কেউই। তারপরেও অনেক সময় কাজে যেতে হচ্ছে শ্রমজীবি মানুষকে। করোনা আতঙ্কে কর্মে অনিয়মিত হওয়ায় উপার্জন কমে যাওয়ায় ব্যাক্তিগতভাবেও অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছেন তারা। পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের। এ অবস্থায়ও বন্ধ নেই এনজিওর কিস্তি আদায়। পৌরসভার পুর্ব সাঞ্জুয়ারভিটা গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি তার স্ত্রী খোতেজা বেগমের নামে এনজিও ব্যুরো বাংলাদেশ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। সেই টাকায় হাট-বাজার মৌসুমী ব্যবসা করে এনজিওর কিস্তি দিয়ে যা থাকে তা দিয়েই সংসার চালান। করোনা আতঙ্কে লোকসানের ভয়ে মহাজনরা তাদের কেনা পণ্য এ মহুর্তে আর নিতে চাচ্ছেন না। এ অবস্থায় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের ব্যবসা। ফলে ঋণের কিস্তির টাকা তারা সংগ্রহ করতে পাচ্ছেন না। একই কথা বলেন এনজিও ঋণগ্রহীতা নুরজাহান বেগম, দ্রুপদী রানী, সুমিত্রা, সোনাকী রানী, মরিয়ম বেগম, ফাহিমা বেগম, মিনা বেগম, নুরনাহার, অর্চনা রানী, শিখা বেগম, কৃষ্ণা রানীসহ অনেকেই। তারা বলেন, তাদের নামে ঋণ দিয়ে তাদের স্বামীরা একইভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করে কিস্তি দিয়ে সংসার চালান। এ মহুর্তে তাদেরও একই অবস্থা। এখন তারা কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। কিন্তু এনজিওরা তা মানতে নারাজ। ব্যুরো বাংলাদেশ নাগেশ্বরী ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার এনামুল হক বলেন এখনো তারা তাদের হেড অফিস থেকে কিস্তি বন্ধের কোন বন্ধের নির্দেশনা পাননি। তাই কিস্তি আদায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই রকম কথা বলেন গ্রামীন ব্যাংক কচাকাটা ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গোলজার রহমান। অন্য এনজিওদের সাথে কথা বলে পাওয়া গেছে একই তথ্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম বলেন, এমহুর্তে করোনা আতঙ্কে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আমি এনজিওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা যেন সহনশীলতার মধ্যে থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান জানান, মানবিকতার দিক থেকে এ মহুর্তে এনজিওদের ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *