করোনা মোকাবিলায় সাধারন মানুষের পাশে ইউএনও মেহেদী হাসান।


সহিজল ইসলাম সজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। যা ইতোমধ্যে আঘাত হেনেছে বাংলাদেশও। প্রান কেড়ে নিয়েছে তিন শতাধিক মানুষের বেশী। করোনা মোকাবিলায় যেন দম ফেলার ফুসরত নেই সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের। বিভিন্ন পদক্ষেপ মহামারী করোনা ভাইরাসকে রুখে দিতে চেষ্টা করেছেন।

এরই মধ্যে কুড়িগাম জেলার রাজীবপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এর মানবিক গুণাবলী সবার নজর কেড়েছে। তিনি করোনা মোকাবিলায় সাধারন মানুষের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক রাজীবপুর উপজেলাতেও প্রস্তুতি নেয়া হযেছে।

ইউএনও মেহেদী হাসান এর নেতৃত্বে করোনা প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে উপজেলায় ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হযেছে। এছাড়া ৩টি ইউনিয়নে ইউএনও নেতৃত্বে ইউনিয়ন করোনা প্রতিরোধ ও পর্যবেক্ষন কমিটি এবং ৩টি ইউনিয়নের ২৮ ওয়ার্ডে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সমন্বয়ে ২৮টি ওয়ার্ড করোনা সচেতন ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

তাছাড়া উপজেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারি-বেসরকারি কলেজের শিক্ষক, গণমাধ্যম কর্মী, এলাকার সচেতন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে ত্রাণসামগ্রী বিলিবন্টনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। সরকার প্রদত্ত ১ম,২য় ও ৩য় ধাপের ত্রাণসামগ্রী (চাল, ডাল, আলু তেল, লবন, মাক্স ও সাবান) উপজেলার কর্মহীন, গরীব ও দুঃস্থ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় ইউএনও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জনসমাগম এড়ানো দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মানতে সর্বস্তরের জনতাকে সচেতন করতে সরকারি নির্দেশনা না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করেছে বেশ কিছু লোকের, অনেককে করেছন সর্তক। উপজেলাব্যাপী মাইকিং উপজেলার সকল মসজিদের ইমামদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ নিয়মগুলো আলোচনা করার নির্দেশনা দেয়া হযেছে।

খোঁজ নিযে জানা যায়, ইউএনও মেহেদী হাসান বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটবাজার গ্রাম পাড়া মহল্লায় গিয়ে নিজে হ্যান্ড মাইক দিয়ে প্রচার করে সচেতন করেছেন যারা বিদেশ ফেরত এবং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকা থেকে আসা প্রত্যক ব্যক্তি ১৪দিন অবশ্যই নিজ কক্ষ্যে থেকে বের হতে পারবেন না তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ তার থেকে আলাদা থাকবেন। এবং উপজেলায় সকল প্রকার গণজামায়েত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমাগম এড়ানোর জন্য যখনই ফোন কল বা অন্য উপায়ে তথ্য আসছে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছন তিনি।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অসহায়দের বাড়ি বাড়ি নিজে পায়ে হেঁটে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে দেখা গেছে।

রাজীবপুর বাজারের ব্যবসায়ী তৈয়ব আলী, শফি, আব্দুল লতিফ, লাল মিয়া, মনোয়ারাসহ অনেকেই বলেন বর্তমানের ইউএনও এলাকা ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ করেছেন তিনি অনেক মানুষকে নামাজী বানিয়েছেন, অনেক অসহায় মানুষকে কর্মস্থান করে দিয়েছেন, এবং কযেকজন ভিক্ষুক ও পঙ্গু মানুষকে জীবিকা নির্বাহের জন্য অর্থসহ দোকান করে দিয়েছেন। এবং ইতিপূর্বে কোনো ইউএনও পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি খাদ্যে পৌঁছে দেয়নি। উনি আসলেই একজন সাদা মনের ভালো মানুষ।

এছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে তাঁর রাত-দিন তৎপরতা সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। রাজীবপুর উপজেলাবাসীকে করোনা মুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে ইউএনও মেহেদী হাসান অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

২০১৮ সালের ৬ মে রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই উপজেলার অনিয়ম ও অসঙ্গতি দুরীকরনে ব্যাপক ভুমিকা পালন করেন।
তারপর ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কোদালকাটি ইউনিয়নের ৯৬টি পরিবারের ঘর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেন। তার পর তিনি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে গুচ্ছগ্রাম ২য় পর্যায় ( সিভিআরপি) চরসাজাই, কোদালকাটি এর ৬০টি গৃহ নির্মাণ, একটি মাল্টিপারস হলরুম, ও চারটি নলকূপ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেন। ২০১৮- ২০১৯ অর্থবছরে তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর আওতায় গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ৫৫টি বাসগৃহ নির্মাণ কাজ সম্পুর্ন করেন।

উক্ত প্রকল্পের আওতায় তিনি রাজীবপুর সদর ইউনিয়নে ৩২টি ও মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে ২৩টি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেন। এরপর ২০১৯- ২০২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর আওতায় গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ৬৯টি বাসগৃহ নির্মাণ কাজ সম্পপুর্ন করেন। উক্ত প্রকল্পের আওতায় রাজীবপুর সদর ইউনিয়নে ৩৪টি, মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে ১৪টি ও কোদালকাটি ইউনিয়নে ২১টি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেন।

২০১৮- ২০২০অর্থবছরে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনে দুটি সুসজ্জিত গোলঘর, বাসভবনে ফুলের বাগান, অত্র উপজেলার শিশুপার্ক এর শহীদ মিনারে টাইলস, শিশুপার্কের প্রাচীর নির্মাণ, শিশুপার্কের গেট নির্মাণ, শিশুপার্কে বিভিন্ন রংয়ের লাইট দ্বারা সজ্জিত করন, শিশুপার্ককে ডিজিটাল ঘড়ি স্থাপন, শিশুপার্কে ঝড়না স্থাপন,উপজেলা পুকুর পাড় সংস্কার ও চারপাশে বিভিন্ন রংয়ের লাইট দ্বারা সজ্জিত করণ। এবং ২০১৯- ২০২০ অর্থবছরে তিনি পুরো উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছেন ও উপজেলা পরিষদ ভবনে চুনকাম এবং ডিজিটাল ঘড়ি স্থাপন করেন।

তিনি করোনা মোকাবেলায় সকলকে সহযোগিতা, সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান। সেই সাথে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের কর্মহীন, গরীব, দুঃস্থ ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *