রাজীবপুরের ইউএনও’র বদলীর আদেশ জনমনে ক্ষোভ


সহিজল ইসলাম, রাজীবপুর(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোঃমেহেদী হাসানের বদলীর আদেশে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে রাজীবপুর থেকে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় বদলী করা হয়েছে।
বদলির খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনসাধারণ ও তরুণ প্রজন্মের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। ইউএনও বদলী প্রত্যাহারের দাবি করেছে সকলে।
আমিনুর রহমান নামের এক স্কুল শিক্ষক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন,এরকম একজন মানুষের আরও কিছুদিন রাজীবপুরে থাকা উচিত ছিল একজন নিতিবান মানুষ ছিলেন তিনি উনার সফলতা কামনা করছি।নজরুল ইসলাম লিখেছেন, স্যারের বদলীর কথা শুনে একজন মহিলা এসেছিল দেখা করতে প্রথমে সবাই ভেবেছিল ত্রাণ সহায়তা চাইবে পরে স্যারকে বলে আপনার বদলির কথা শুনে শেষ বার আপনাকে দেখতে আইছি স্যার।
কামরুল হাসান লিখেছেন উনার সাথে কোনদিন দেখা হয় নি কথাও হয় নি।তবে এলাকাবাসীর কাছে উনার খুব প্রশংসা শুনেছি। আশরাফুল ইসলাম লিখেছেন,আজকের দিনের খুব খারাপ খবর শুনলাম ইউএনও স্যারের বদলীর আদেশ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে ২০১৮ সালের ৬ মে রাজীবপুর উপজেলা নিবার্হী কমকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে জনবান্ধব নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করে মোঃমেহেদী হাসান।স্বপ্ল সময়ে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে বদলে যায় উপজেলার চিত্র।এই উপজেলায় দুই বছরের কর্ম জীবনে বন্যা মোকাবেলায় ত্রাণ সহায়তা,উপজেলার শিশুদের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র শিশুপার্ক পূর্ণ নির্মান,দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সরকারী ঘর নির্মান সহ নানা কাজে প্রশংশনীয় কাজ করে সকল স্তরের মানুষের মনের মাঝে স্থান করে নিয়েছেন।করোনা ভাইরাস প্রতিরোধেও তার ভূমিকা অনন্য।নিজেই রাতের বেলা দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতেন।
অসহায় মানুষের ভরসা রাজীবপুরের ইউএনও।উপজেলার বালিয়ামারী গ্রামের দরিদ্র মফিজুল ইসলামকে দোকান করে দিয়েছেন, জাউনিয়ারচর গ্রামের আব্দুল্লাহকে অটোভ্যান।মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের বাকপ্রতিবন্ধি আবু হানিফ,কে দোকান করে দিয়েছেন। টাঙ্গালিয়া পাড়া গ্রামের ফুল মিয়াকে কৃত্রিম পা সংযোজন করে দিয়েছেন।এরকম আরও অনেক অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।অনেক মানুষের ভরসার জায়গা ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্তরকে সাজিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন রুপে।সড়কে বসিয়েছেন সৌর বিদ্যুতের লাইট।এতে রাতের বেলা স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারে পথচারীরা।সন্ধা নামলে উপজেলা পুকুর পাড় জুরে সৃষ্টি রঙ্গিন আলো আঁধারের খেলা বিমোহিত করে আগন্তুকদের।
এবিষয়ে কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুনকবির ছক্কু বলেন,একজন ভালো এবং কাজ পাগল মানুষ ছিলেন ইউএনও মহোদয়।উপজেলা শহরের ব্যাবসায়ী তৈয়ব আলী বলেন,এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন তিনি।কোদালকাটি ইউনিয়নের শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন,মেহেদী হাসান স্যার কর্মের মাধ্যমে রাজীবপুর উপজেলায় মানুষের মনের ভিতরে স্থান করে নিয়েছে।তিনি চলে গেলেও এলাকাবাসী উনাকে মনে রাখবে একজন ভাল কর্মকর্তা হিসেবে।
বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃমেহেদী হাসান বলেন,স্বাভাবিক নিয়মেই আমার বদলী হয়েছে। এটি সরকারী চাকুরীতে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। গত দুই বছরে এলাকাবাসীর জন্য কতটুকু কাজ করতে পেরেছি জানি না। তবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসী আমার কাজের মূল্যায়ন ভালো করতে পারবে।এলাকার সকলের প্রতি ভালবাসা জানিয়ে তিনি আরও বলেন,যেখানেই চাকুরী করি রাজীবপুরের মানুষের আথিতেয়তা মনে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *