কচাকাটা গ্রামীণ ব্যাংকে ঋন নিতে গিয়ে লাঞ্চিত সংখ্যালঘু নারী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কিস্তি পরিশোধ করে গ্রামীন ব্যাংকের একটি শাখায় ঋন নিতে গিয়ে লাঞ্চিত হয় এক নারী সদস্য। এসময় ওই নারী সদস্যের স্বামীকেও মারপিট করে ব্যাংকটির দুইজন কর্মী। জনরোষ থেকে বাচঁতে তাৎক্ষনিক উপযুক্ত বিচার দেয়ার আশ্বাস দিলেও এখন টালবাহানা শুরু করেছে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক। ঘটনাটি ঘটেছে ২ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা গ্রামীন ব্যাংক শাখায়।

জানা যায়, উপজেলার কেদার ইউনিয়নের বিঞ্চুপুর জেলে পাড়ার জেলে প্রাণকৃঞ্চ বিশ্বাসের স্ত্রী সেফালী রাণী বিশ্বস গ্রামীন ব্যাংকের কচাকাটা শাখার একজন সদস্য। ইতি পূর্বে ২০হাজার টাকা ঋণ নেয়। সেই টাকায় মাছ ধরার জাল কিনে সংসার চালান তার স্বামী। করোনাকালে সাধারণ ছুটির সময় ব্যাংকের মাঝিপাড়া কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মশিউর রহমানের চাপে সেই জাল বিক্রি করে এক যোগে ঋণের টাকা পরিশোধ করে এবং নতুন ঋণের প্রস্তাব করে তারা। প্রায় দুই মাস ধরে ঋণ দেই দিচ্ছি বলে প্রতি সপ্তাহে কচাকাটা শাখায় তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে রেখে সন্ধ্যায় খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়। ঘটনার দিন আবারো ঋণ দিবে বলে তাকে ডেকে পাঠায় অফিসে। এদিন তার স্বামীসহ যায় সেফালী। আগের মতই সারাদিন বসিয়ে রেখে সন্ধ্যা ৭টায় ঋণ না দিয়ে বিদায় করে দিতে চাইলে তার স্বামী প্রাণকৃঞ্চ বিশ্বাসের সাথে কেন্দ্র ব্যাবস্থাপক মশিউর রহমানের সাথে কথা কাটাকাটি বাঁধে। এসময় সেখানে থাকা অন্য দুই কর্মী রাকিব ও আনোয়ার হোসেন প্রাণকৃঞ্চ বিশ্বাসকে কিলঘুষি দিতে দিতে গেটের বাইরে রাস্তায় নিয়ে আসে। সেফালী বিশ্বাস তার স্বামীকে বাঁচাতে বাঁধা প্রদান করলে তাকেও শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় এবং ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। এসময় তার কোলে থাকা দেড় বছরের সন্তান রাস্তার কাঁদা পানিতে ছিটকে পড়ে যায়। পরে বাজারের লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে গেটে তালা দিয়ে শাখা ব্যবস্থাপকসহ অন্যান্য কর্মী ভিতরে গা ঢাকা দেয়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কয়েকজন পথচারী,পাশের কয়েকটি দোকানদার ঘটনাটি প্রত্যক্ষ দেখেন এবং প্রতিবেদকের নিকট বয়ান দেন। লাঞ্চিত নারী সদস্য সেফালী রাণী জানান, তার স্বামীকে মারধোরের সময় সে বাধা প্রদানের চেষ্টা করলে তাকেও কিলঘুষি দেয়া হয় এবং ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। তার দেড় বছরের সন্তান রাস্তায় ছিটকে পড়ে যায়।

প্রাণকৃষ্ণ জানান, ঋণ না দেয়া কারণ জানতে চাইলে তার সাথে (কেন্দ্র ব্যাবস্থাপক) তর্কবাধে এসময় কয়েকজন আমাকে মারতে মারতে বাইরে বের করে দেয়। সেখানে শাখা ব্যবস্থাপক থাকলেও তিনি কোন বাবস্থা নেননি। পরে স্থানীয়রা বিচার দেয়ার কথা বলে এখন পর্যন্ত খালি ঘুরাচ্ছে।

গ্রামীন ব্যাংক কচাকাটা শাখার ব্যাবস্থাপক গোলজার হোসেন জানান, মারপিট হয়নাই একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। ঋণ নিয়ে যেহেতু ঝামেলা হয়েছে আমরা তাকে ঋণ দিবো বলেছি, সেহুতু আর ঝামেলা থাকার কথা না। অনতি বিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবী করেছে সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *