কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত শেষ,অচিরেই ব্যবস্থা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, জাল জালিয়াতি ও তত্বাবধায়ক এর স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরই আলোকে মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক একটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয় । লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মেলেন্দু রায় এই তদন্তকাজে বুধবার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সকাল ১০ টায় আসেন।

তদন্তকালীন সময়ে তদন্তের সুবিধার্থে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঠিকাদার নুরুজ্জামান জামান এর নেতৃত্বে কতিপয় ঠিকাদার বিভিন্ন তথ্যসম্বলিত অভিযোগ পুনরায় প্রদান করেনএবং হাসপাতালের সাবিক কল্যানে সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানান।

এছাড়াও হিসাব রক্ষক কাম অফিস সহকারী আশরাফুল মজিদ এর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহন ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ সম্বলিত আবেদনপত্র হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী স্বাক্ষী হিসেবে তদন্ত টিমের কাছে দাখিল করেন

তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মেলেন্দু রায় কুড়িগ্রাম -২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্জ পনির উদ্দিন আহমেদ এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর ডিও প্রদান সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এছাড়াও সম্প্রতি আউটসোর্সিং এর টেন্ডারে দুর্নীতি অনিয়মের প্রমানীত তথ্য ও কাগজপত্র তদন্ত কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের অসংখ্য দুর্নীতি নিয়ে দেশের অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন টেন্ডারে অংশগ্রহণ করা ঠিকাদার ও কুড়িগ্রামের অনেকেই সচিব,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর বিভিন্ন প্রমানসহ লিখিত অভিযোগ করেন । দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সেচ্ছাচারিতার কারণে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়েছে। ফলে সাধারণ গরিব রোগীরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এনিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দফায় দফায় বিভিন্ন অভিযোগ দাখিলের প্রেক্ষিতে জানা যায় যে বর্তমান তত্বাবধায়ক ডাঃ আবু মোঃ জাকিরুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন টেন্ডার, কেনাকাটা, বদলী সংক্রান্ত বিষয়ে চরম দুর্নীতি শুরু করে ।যোগদানের শুরুতে ঔষুধ,চিকিৎসা সরঞ্জামাদী সহ বিভিন্ন সামগ্রীর টেন্ডার দরপত্রে ( স্মারক: জেনা :হাস:/কুড়ি/এমএসআর/২০১৯-২০২০/৯৮৪০ তাং ১৮.০৯,২০১৯) সুনির্দিষ্ঠ অনিয়ম নিয়ে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ করেন মের্সাস শাহীন ফার্মেসী ও শাহজাহান চৌধুরী।

এরপরে পথ্য,ধুপি, স্টেশনারীর টেন্ডার গোপন করে সম্পাদন করলে মিডিয়া ও ঠিকাদারদের চাপের মুখে তত্বাবধায়ক ডাঃ আবু মোঃ জাকিরুল ইসলাম উক্ত টেন্ডার বাতিল করে দেন। জেনা:হাস:/কুড়ি /আউটসোর্সিং/২০১৯-২০২০/১৮২ তারিখ: ৩০.০১.২০২০ ইং এর স্মারক মোতাবেক আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ২৯ জন জনবল নিয়োগে চরম দুর্নীতি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিযোগকারী বলেন, কার্যাদেশ প্রাপ্ত স্বরলিপি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিঃ প্রতিষ্ঠানটির উক্ত টেন্ডারে অংশগ্রহণের কোন যোগ্যতাই ছিলনা। বিধিমোতাবেক ব্যাংক সলভেন্সি, ব্যাংকের জামানত, বাংলাদেশ সিকিউরিটি সার্ভিস এর সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র ভুয়া এবং জাল করা হয়েছে। কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়া রংপুরস্থ স্বরলিপি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিঃ কে টেন্ডারে মনোনয়ন সহ কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।প্রকৃত পক্ষে এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরো জানা যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আবু মোঃ জাকিরুল ইসলাম ও প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক আশরাফুল মজিদের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স এর অংশ হিসাবে যথাশীঘ্র এ বিষয়ে ব্যবস্থা গৃহীত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ নিরমলেন্দু রায় জানান,তদন্ত ভার পাওয়ার পর তদন্তের সব কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। শীগ্রই তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *