বড়লেখায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন খুন

মোঃ আলাল আহমদ :
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জমি ক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ (৩৫) মারা গেছেন। গতরাতে (২৩ জুলাই) সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহাদ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সুজাউল (হরিনগর) গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে। আর অভিযুক্ত মাতাব উদ্দিন একই এলাকার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল আহাদ ও তার স্বজনরা উপজেলার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর পুত্র মাতাব উদ্দিন ও তার সৎ ভাইদের কাছ থেকে সম্প্রতি কিছু জমি ক্রয়ের জন্য বায়নাপত্র করেন। জমি রেজিষ্ট্রির আগে নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকের বেশি টাকাও মাতাব উদ্দিনদের দেওয়া হয়। রেজিষ্ট্রি করার সময় অবশিষ্ট টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে জমির কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা ও করোনাভাইরাসের কারণে জমি রেজিস্ট্রি হয়নি। এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে জমিতে চাষ করতে গেলে মাতাব উদ্দিনরা বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়ায় আহাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন মাতাব উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আব্দুল আহাদ স্থানীয় অফিসবাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরই মধ্যে মাতাব উদ্দিন আহাদের পথ রোধ করে দাঁড়ান। একপর্যায়ে মাতাব উদ্দিন দা দিয়ে আহাদের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে তাঁকে (আহাদ) ‍উদ্ধার করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টায় তিনি মারা যান।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক আজ (২৪ জুলাই) বিকেলে বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়ভাবে জেনেছি। নিহতের পরিবার এখনও মামলা দেননি। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের নজরদারিতে আছে। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বড়লেখা থানা ডিউটি অফিসারের মোবাইলে আজ রাত ৮ টায় কথা বললে আসামি গ্রেফতার বা মামলার বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *