জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতাকে অবমাননা শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
জাতীয় শোক দিবসে স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতাকে নিয়ে অবমাননা, অশ্লীল ভাষা ও শোক দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় দু’জন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এডহক কমিটির সভাপতি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের গোপালপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সোহেল রানা ও প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, সহকারী শিক্ষক নুরে আলম সিদ্দিক, আব্দুস সামাদ ব্যাপারী, তরণী কান্ত বর্মণ, হাফিজুর রহমান, ইউছুব আলীসহ ১০জন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনে প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও জাতির পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে তবারক বিতরণ করাসহ যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে।

অপরদিকে অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের ও রোজিনা বেগমকে জাতীয় শোক দিবস পালনে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সভাপতি ১৪আগস্ট তাদের অনুরোধ করেন। ১৫আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে ঐ দু’জন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় সভাপতি তার বিশ্বস্ত লোক মাধ্যমে ঐ শিক্ষকের বাড়িতে পাঠিয়ে পুনরায় শোক দিবস পালন করতে আসার জন্য অনুরোধ করেন। এতে সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের ও রোজিনা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন “শেখ হাসিনার বাবার মৃত্যু দিবস শেখ হাসিনার বাড়িতে পালন করুক” এ ধরনের অশ্লীল উক্তি ও কটাক্ষমূলক কথাবার্তা জাতীয় শোক দিবসকে অবমাননা করেছে এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে মারাত্মক আঘাত হানে। সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের ও রোজিনা বেগমের এসব উক্তির ঘটনার সময় উপস্থিত সোহেল ও সহকারী শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, সহকারী শিক্ষকদের এ ধরনের দাম্ভিকতা ও কটাক্ষপূর্ন উক্তি জাতীয় শোক দিবসে স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কে নিয়ে অবমাননা, মানহানীকর ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।
এডহক কমিটির সভাপতি সোহেল রানা বলেন, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনকের জাতীয় শোক দিবস পালন করতে সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের ও রোজিনা বেগম স্কুলে না এসে বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে এ ধরনের অশ্লীল উক্তি ও কটাক্ষমূলক কথাবার্তা বলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে উধ্বতর্ন কৃতপক্ষকে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জাতীয় শোক দিবস নিয়ে এসব অবমাননা, মানহানীকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কমিটির সভাপতির দেয়া অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে আমাদের লিখিতভাবে জানালে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *