লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ পরিবার-পরিকল্পনা অফিসের নাইটগার্ড রশিদের ঔষধ চুরি করে কোটিপতি হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

 
ওয়ালিউর রহমান \ আব্দুর রশিদ পিতা মৃত: মমতাজ উদ্দিন। গ্রামের বাড়ী গাইবান্ধা জেলায়। প্রায় ২০/২২ বছর আগে নাইট গার্ড হিসেবে পরিবার-পরিকল্পনা অফিসে চাকুরি পান এবং সেখানে একটি অফিসে যোগদান করেন। পরে লালমনিরহাটে বদলী হয়ে আসেন এবং বর্তমানে খুনিয়াগাছ পরিবার-পরিকল্পনা অফিসে কর্মরত আছেন। এখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় সরকারী ঔষধ পাচার করে বিক্রি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরী করেন। এ জন্য তার দুই ভাই আব্দুর রাজ্জাক রেজা ও দুদুকে এই ঔষধ চুরির সাথে জড়িত করেন। প্রতিদিন সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকার ঔষধ গুলো রেজার বাসা থেকে দুদু নিয়ে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করত। নাইট গার্ড আব্দুর রশিদের ঔষধ চুরির সিন্ডিকেটটি সদর হাসপাতাল, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আতঁাত করে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সরকারি ঔষধ পাচার করে এনে ঐ রেজার বাসায় মওজুত করে রাখত। এভাবে সরকারী ঔষধ চুরির মাধ্যমে বিক্রি করে ইতো মধ্যে তারা ৩ ভাই প্রায় কোটি পতি হয়ে গেছে। শহরের কালীবাড়ীতে টাউন হল নামের ঔষধের ফার্মেসীর দোকান দেন আব্দুর রাজ্জাক রেজা এবং আলোরুপা মোড়ে লালমনি সার্জিক্যাল মেডিকেল সেন্টার নামে ঔষধের দোকান দিয়েছেন নাইট গার্ড আব্দুর রশিদ। এছাড়াও তারা ৩ ভাই শহরের ডায়াবেটিকস হাসপাতাল এলাকায় ও ড্রাইভার পাড়ায় একেকটি করে আলিশ্বান বাসা নির্মান করে এসি লাগিয়ে রাজার হালে বসবাস করছে। গত ২৪/৬/২০২০ ইং তারিখে থানা পুলিশ ড্রাইভার পাড়া রেজার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান সরকারি ঔষধ উদ্ধার সহ দম্পতিকে গ্রেফতার করার পর তাদের দীর্ঘদিনের সরকারি ঔষধ চুরির ঘটনাটি প্রকাশ পায়। আব্দুর রশিদ একজন নাইটগার্ড হলেও সে সার্বক্ষনিক ১৫০সিসি হোন্ডা চালিয়ে সারা জেলা চোষে বেড়ান এবং বিভিন্ন দোকানে ঔষধের অর্ডার নেন। তার এই সরকারী ঔষধ চুরির সাথে জেলা ও উপজেলাসহ বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তাগন জড়িত আছে বলে একটি বিশ্বস্ত সুত্র জানায়। উক্ত নাইট গার্ডের বিরুদ্ধে সদর থানায় সরকারি ঔষধ চুরির ঘটনায় নিয়মিত মামলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি অদ্যাবধি। উপরোন্ত সে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছে প্রতি মাসে। অথচ সে নিয়মিত অফিস না করে রাতে তার বাসাতেই ঘুমিয়ে থাকেন। এব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা পরিবার-পরিকল্পনা অফিসের প্রধান সহকারী মোখলেছুর রহমান বলেন, নাইট গার্ড আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তার কোন কাগজ আমাদের হাতে আসেনি। তবে এধরনের কোন কাগজ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উল্লেখ্য, থানা পুলিশ যে সব সরকারি ঔষধ উদ্ধার করেছে তার মধ্যে ৭৫% ঔষধ পরিবার-পরিকল্পনা অফিসের এবং ২৫% ঔষধ সদর হাসপাতাল সহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এদিকে থানা পুলিশ তাদেরকে হন্য হয়ে খুজলেও তারা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। এ ঔষধ চুরির চাঞ্চল্যকর আরো তথ্য পরের সংখ্যায় বিস্তারিত লেখা হবে।
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *