প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনা ডিডি হারুন অর রশিদ এর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

ওয়ালিউর রহমান ॥ লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনা ডিডি হারুন অর রশিদ ও হিসাবরক্ষক সাইদুলের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের সুনিদিষ্ট অভিযোগের পাশাপাশি পেনশন বই গায়েবের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট পৌরসভাধীন শহীদ শাহজাহান কলোনীতে বসবাসরত আমেনা খাতুনের মা বিবিজন লালমনিরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা (ডিডি) অফিসের একজন কর্মচারী ছিলেন। তিনি হঠাৎ অসুস্থ্য হওয়ায় তার পরির্বতে পরিবার পরিকল্পনা অফিসে আমেনা খাতুন দীর্ঘ ৯ বছর বদলি হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু আমেনা খাতুনের মা বিবিজনের মৃত্যুর পর ওই অফিসে আমেনা খাতুনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। এদিকে বিবিজনের ছেলে-মেয়ের মধ্যে আমেনা খাতুন একমাত্র বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হিসেবে মায়ের পেনশনের টাকা ৯ বছর যাবত উত্তোলন পূর্বক ভোগ করে আসছিলেন। পরে আজীবন পেনশন করার জন্য পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ পদক্ষেপ গ্রহন করেন। আজীবন পেনশনের বিপরীতে পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ ২০ হাজার ও একই অফিসের হিসাব রক্ষক সাইদুল একাউন্টস অফিসের কথা বলে মোট ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করেন। এভাবে দফায় দফায় আমেনা খাতুনের নিকট থেকে হাজার হাজার টাকা ঘুষ নিলেও অসহায় আমেনা খাতুনের অদ্যাবধি পেনশন বইয়ের হদিস মিলছে না বলে গতকাল বুধবার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকের নিকট। ওদিকে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে সুচিকিৎসা নিতে পারছেন না আমেনা খাতুন। পেনশন না পেয়ে আজ দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাতে পারছেন না সে। বৃদ্ধ বয়সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ঔষধ কিনতে পারছেন না আমেনা খাতুন। গরীব ও সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। মৃত বিবিজনের প্রতিবন্ধী কন্যা আমেনা খাতুন মিডিয়া কর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমার মা বিবিজন পরিবার পরিকল্পনা অফিসে দীর্ঘদিন চাকরি করতেন। তিনি অসুস্থ্য হওয়ায় তার পরির্বতে আমি সেখানে দীর্ঘ ৯ বছর চাকরি করি। আমার মা মারা যাওয়ার পর ওই অফিসে আমার আর চাকরি নেই। মা মারা যাওয়ায় পর মায়ের টাকা পয়সা সব ভাই বোন মিলে সমান ভাগ করে নেই। কিন্তু আমার মায়ের পেনশনের টাকা আমি ৯ বছর যাবত উত্তোলন পূর্বক ভোগ করে আসছিলাম। তারপর আজীবন পেনশন করার জন্য এই ডিডি স্যার (পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ) পদক্ষেপ গ্রহন করেন। প্রেক্ষিতে আমার আজীবন পেনশনের জন্য একাউন্টস অফিসে সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্যাংকে এ্যাকাউন্টও করেছি। এখন জানতে পেরেছি আমি আর আজীবন পেনশনের টাকা পাবো না। আমেনা খাতুন আরও বলেন, আজীবন পেনশনের যাবতীয় কাজ করতে পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ ও হিসাবরক্ষক সাইদুল দফায় দফায় হাজার হাজার টাকা ঘুষ নিলেও পেনশনের কোনো হদিস মিলছে না। এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ বিবিজনের দীর্ঘদিন তার অফিসের চাকুরি করার কথা স্বীকার করে বলেন, তার জীবদ দশায় পেনশনের যাবতীয় টাকা ভোগ করে চলে গেছেন। আমি তার সাথে কথা বলে জানতে পারি সে বাকপ্রতিবন্ধী নয়, হয় তো বা সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। এজন্য তার পেনশন একাউন্টস অফিসে চিঠি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। আর আমাকে যে পেনশন করার জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেছেন তার বিষয় আমার তেমন কিছুই জানা নেই। ২০১৫ সালে লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক হিসেবে হারুন অর রশিদ ডিডি হিসেবে এখানে যোগদান করেন। সরকারী নিয়মানুয়ায়ী একজন কর্মকর্তা ৩ বছরের অধিক একই অফিসে কর্মরত থাকার কোনো বিধান নেই বলে বিভিন্ন অফিস সুত্রে জানা গেছে। কিন্তু তিনি প্রভাব খাঁটিয়ে উপর মহলকে ম্যানেজ করে একই পদে বছরের পর বছর এখানে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের হিসাবরক্ষক সাইদুল এর সাথে কথা হলে তিনি পেনশন বাবদ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহনের বিষয়ে কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। অসহায় আমেনা খাতুন তার অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ট ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পুর্বক দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি তার পেনশনের দাবি পুরনের জন্য সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *