চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবাসিক এলাকার বসতবাড়ি অধিগ্রহণ বন্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন

ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেঃ
নতুন সড়ক নির্মানের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ০২নং ওয়ার্ডের কামাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন গোয়ালপাড়া-দাউদপুর রোড হয়ে বেসিক ব্যাংক পর্যন্ত মধ্যবর্তী আবাসিক এলাকার বসতবাড়ি অধিগ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ৩১ জন বাড়ির মালিক সাক্ষরিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কোটি শতক মূল্যের এসব জমি অধিগ্রহণ করে নতুন এই রাস্তাটি নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় হবে। গোয়ালপাড়া-দাউদপুর রোড হয়ে বেসিক ব্যাংক পর্যন্ত যে রাস্তা নির্মাণ করতে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, তাতে এই এলাকার প্রায় ৬০টি বসতবাড়ি রয়েছে। এছাড়াও রাস্তার শুরু ও শেষে বড় মোড় নেয়। এমনকি রাস্তাটির মাঝপথে প্রস্থ অনেক কম, যান চলাচলে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে পথচারীদের। সার্বিক দিক বিবেচনায় বসতবাড়ি অধিগ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ করে বিকল্প রাস্তার সন্ধান দিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো আবেদনের আগে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীসহ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জাতীয় সংসদ সদস্য এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়র বরাবর আবেদন করেন এলাকাবাসী।

আবেদনপত্রে বলা হয়, গোয়ালপাড়া-দাউদপুর রোড হয়ে বেসিক ব্যাংক পর্যন্ত প্রস্তাবিত রাস্তাটি অতি সংকীর্ণ, যার দৈর্ঘ্য প্রথম ১৫০ ফিটের প্রস্থ ৬-৭ ফিট। তার পরের ১’শ ফিটের প্রসস্থতা মাত্র ৩ ফিট। আবার তার পরের দাউদপুর হতে বেসিক ব্যাংক পর্যন্ত ৩৩০ ফিট রাস্তার প্রস্থ ৮-১০ ফিট। গোয়ালপাড়া-দাউদপুর রোড হয়ে বেসিক ব্যাংক পর্যন্ত প্রস্তাবিত রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ৮৭০ ফিট এবং এই রাস্তার দুই ধারে ৬০টি বসতবাড়ি রয়েছে। রাস্তাটি নির্মাণে বহু আবাসিক ঘরবাড়ি ও বাড়ির অংশবিশেষ ভাঙতে হবে। এতে এই এলাকার মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। যে পরিমান ক্ষতি হবে তাতে বেশিরভাগ পরিবার তা পূরণ করতে পারবে না। এমনকি রাস্তার দুই পাশের বসতবাড়ি অধিগ্রহণ করলে একদিকে যেমন অনেক লোক ক্ষতিগ্রস্থ হবে, অন্যদিকে সরকারের আর্থিক ব্যয়ের পরিমান কয়েকগুণ বেশি বৃদ্ধি পাবে।

গোয়ালপাড়া-দাউদপুর রোড হয়ে বেসিক ব্যাংক পর্যন্ত প্রস্তাবিত রাস্তাটির গলির মুখের নিজ বাড়িতে বসবাস করেন, ৮৮ বছর বয়স্ক স্বনামধন্য আইনজীবী অ্যাড. আলহাজ্ব শাহজাহান বিশ্বাস। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদনে আমরা পাশের ২৩০ ফিট দুরত্বের বিকল্প একটি রাস্তার প্রস্তাব করেছে। যেটি হবে আলিয়া মাদ্রাসা মোড় হতে ওয়ালটন মোড় পর্যন্ত। মাদ্রাসা মোড় হতে ঝিলিম রোডস্থ ওয়ালটন মোড় পর্যন্ত ৫৬০ ফিট দৈর্ঘ্যের ১২-১৩ ফিট প্রসস্থ একটি রাস্তা রয়েছে। বর্তমানে রাস্তাটির দক্ষিণ পাশে বেশ কিছু অর্পিত সম্পত্তি, ফাঁকা জায়গা ও কম সংখ্যক আবাসিক বাড়ি রয়েছে। এই রাস্তাটি গোয়ালপাড়া রাস্তার থেকে দিগুণ প্রসস্থ বিশিষ্ট। এছাড়াও রাস্তার পশ্চিম প্রান্তে বিশাল বড় মাদ্রাসা মোড় এবং পূর্ব প্রান্তে ওয়ালটন মোড়টি বহুমুখী রাস্তার একটি মোড়। এই রাস্তাটি নির্মান করলে, দৈর্ঘ্য কম হবে, প্রস্থ বেশি হবে, মাত্র ৬-৭টি ঘরবাড়ি অধিগ্রহণ করতে হবে। একদিকে যেমন ব্যয় অনেক কমবে, তেমনি অন্যদিকে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচলে অনেক সুবিধা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সরকারের অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান গোয়ালপাড়া-দাউদপুর রোড হয়ে বেসিক ব্যাংক পর্যন্ত রাস্তা এবং এলাকাবাসীর প্রস্তাবিত বিকল্প মাদ্রাসা মোড়-ওয়ালটন মোড়ের রাস্তাটির মধ্যে তুলনা করলে আমরা দেখতে পায়, গোয়ালপাড়া রাস্তায় ৬০টি পরিবারের বসবাস, রাস্তার প্রসস্থতা অনেক কম, দৈর্ঘ্য বেশি, ব্যয়ও অনেক বেশি। অন্যদিকে এলাকাবাসীর প্রস্তাবিত মাদ্রাসা মোড়ের রাস্তায় ৬-৭টি বাড়ি অধিগ্রহণ করতে হবে প্রস্থা প্রায় দিগুণ বৃদ্ধি পাবে, দৈর্ঘ্যও অনেক কমে যাবে, ফলে রাস্তা নির্মাণে ব্যয় অনেক অনেক কমে যাবে।

গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা মোহা. আনোয়ার আহসান, মো. ইকবাল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় সকলের দাবি, অধিক ব্যয়ে ৬০টি একতলা, দ্বোতলা, তিনতলা বাড়ি অধিগ্রহণ করে সংকীর্ণ ও অধিক দুরত্বের রাস্তার বাড়ি অধিগ্রহণ বন্ধ করে কম ব্যয়ে ৬-৭টি বাড়ি অধিগ্রহণ করে কম দুরত্বের বেশি প্রসস্থ মাদ্রাসা মোড়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *