ভূরুঙ্গামারীতে কমিউনিটি ক্লিনিকের সি.এইচ.সি.পি অসুস্থ্য দায়িত্ব পালন করছেন তার স্বামী।

 
ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নজর এড়িয়ে স্ত্রীর পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করছে স্বামী । পূর্ব অভিজ্ঞতা  ও কোন ধরনের প্রশিক্ষণ না থাকলেও রোগী দেখা, ঔষধ দেওয়া সহ যাবতীয় কাজ করছে সিএইচসিপির হামিদা খাতুনের স্বামী। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলা ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ভোটহাট কমিউনিটি ক্লিনিকটি দুপুর ১২টায় বন্ধ। জানা যায় এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সি.এইচ.সি.পি. হামিদা খাতুন, দীর্ঘ দেড় বছর যাবৎ মানসিক ভাবে অসুস্থ্য থাকায় তিনি ক্লিনিকের দায়িত্ব পালন করছেন না। তার পরিবর্তে তার স্বামী কামরুল ইসলাম অনিয়মিত ভাবে ক্লিনিকে আসা যাওয়াসহ রোগী দেখা, ঔষধ পত্র ও যাবতীয় কাজ করে আসলেও বিষয়টি নজরে আসেনি  উর্ধতন কতৃপক্ষের।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দায়িত্ব প্রাপ্ত সি.এইচ.সি.পি. হামিদা খাতুন এর স্বামী কামরুল ইসলাম এর ঔষধ ও রোগী দেখার কোন প্রশিক্ষণ না থাকলেও সে  দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন রোগের ঔষধ দিয়ে আসছে। এতে করে সেবা নিতে আসা রোগিরা সঠিক ঔষধ না পেয়ে অনেকের অসুস্থ্যতা বেড়ে যাচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে যাদের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিক সেই প্রসূতি মা ও শিশুরা।
 
 
এলাকাবাসী মোজাম্মেল হক ও আজাহার আলী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, হামিদা খাতুন মানসিক ভাবে অসুস্থ্য থাকায় তার স্বামী  কামরুল ইসলাম ক্লিনিকে বসে সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা খোলা রাখে। ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং কোনদিনও  সময়মত ক্লিনিকে আসে না।
 
 সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহাজাহান আলী জানান, ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা সি.এইচ.সি.পি হামিদা খাতুন দীর্ঘ দিন থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার পরিবর্তে তার স্বামী এই দায়িত্ব পালন করছে। প্রশিক্ষণহীন একজন ব্যক্তি কিভাবে বিভিন্ন রোগের ঔষধ গ্রামের লোকজনকে দিচ্ছে তা আমার বুঝে আসে না।
 
এ বিষয়ে হামিদা খাতুন ও তার স্বামী কামরুল ইসলাম এর সাথে বারবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
 
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিকট জানতে চাইলে ডাঃ এ.এস.এম সায়েম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *