পরশুরাম থানা কমিউনিটি পুলিশিং আয়োজিত আলোচনা সভায় আরপিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন মাদক হচ্ছে সকল অপরাধের মা

তাজিদুল ইসলাম লাল
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মোঃ আবু মারুফ হোসেন বলেছেন, মাদক হচ্ছে সকল অপরাধের মা। এই মাদক থেকে বর্তমান যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে সবার প্রথমে প্রতিটি অভিভাবকের সাথে সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্য, সকল থানার ওসিসহ প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তা মোবাইল নম্বর সেফ করে রাখবেন, যে কোন সমস্যা হলে তাৎক্ষনিক তাদেরকে জানাবেন, দেখবেন সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর চব্বিশ হাজারী স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে রংপুর মেট্রোপলিটনের পরশুরাম থানা কমিউনিটি পুলিশিং আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘মুজিববর্ষের মুলমন্ত্র, কমিউনিটি পুলিশিং ডে সর্বত্র’, এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধান অতিথি আরও বলেন, পুলিশ ও জনগণ সমান সমান। আপনাদের আশপাশে মা, বোন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় প্রথমে আপনারাই এগিয়ে আসেন। এছাড়াও ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ নানাবিধ অপরাধমূলক কাজ বর্তমানে অনেকাংশে কমে গেছে। এর কৃতিত্ব শুধু পুলিশ বাহিনীর নয়, এর অংশিদার আপনারাও। তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গুজবের ঘটনা টেনে বলেন, আপনাদের আশপাশেও এধরনের গুজবের ঘটনা ঘটতে পারে। সে বিষয়ে আপনাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। কেউ যাতে গুজব ছড়িয়ে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে।
পরশুরাম থানা কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি মোঃ খতিবর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আরপিএমপি’র অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার উজ্জল কুমার রায়, সহকারী পুলিশ কমিশনার পরশুরাম জোন শেখ মোঃ জিন্না আল মামুন, পরশুরাম থানা অফিসার্স ইনচার্জ হিল্লোল কুমার রায়, কমিউনিটি পুলিশিং পরশুরাম থানা সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল কুমার, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনোয়ারুল ইসলাম লেবু, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বিলকিছ বেগম, বুড়িরহাট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান চঞ্চল, কমিউনিটি পুলিশিং ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি যোবায়ের কিবরিয়া, সদস্য ওয়ায়েজ কুরনী বাবু, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রউফ রাব্বি প্রমুখ। এছাড়াও কমিউনিটি পুলিশিং ডে’র আলোচনা সভায় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ঈমাম ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে বিভিন্ন অপরাধমুলক কাজ নির্মূল করতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের তথ্য দিয়ে থানা পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সময়ে পৌঁছে দেওয়ার ফলে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বেড়েছে বলেও অনেকেই মন্তব্য করেন। তারা আরও বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে সমাজের মানুষকে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও সেবা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বিশেষ অবদান রাখা যাবে। কমিউনিটি পুলিশ প্রতিনিয়ত ছোট ছোট কাজ করে যাচ্ছে, যা একদিন অনেক বড় সাফল্যে রূপ নেবে বলে অনেক বক্তাই তাদের বক্তব্যে বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *