আদিতমারী ইউএনও’র দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা উপজেলা চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন ইউএনও’র থানায় ২টি জিডি এলাকায় তোলপাড়

 
লালমনিরহাট প্রতিনিধি \ জেলার আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। গত শনিবার বিকাল ৫ টায় উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসের নিজস্ব বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইউএনও মনসুর উদ্দিন সরকার জীবিত একাধিক স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবাভাতার তালিকা প্রণয়ন, সুস্থ ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধি ভাতা প্রদান, মৃত ব্যক্তিকে অসুস্থ্য দেখিয়ে চিকিৎসার অর্থ আত্নসাত, নামে বেনামে প্রান্তিক মানুষের নামে সমাজ সেবা ঋণ বিতরণ, উপজেলা পরিষদকে অবগত না করে নিজেই নানা প্রকল্প তৈরি করে ঠিকাদারী কাজ নিজেই করে অর্থ আত্নসাত করেছেন উক্ত ইউএনও। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এসব অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে তাঁর সাথে আমি কথা বলি। ফলে আমি ইউএনও’র বিরাগভাজন হয়ে যাই। একারনে তিনি তার অধিনস্থ সকল কর্মকতা ও কর্মচারিকে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেন। গত ১২ নভেম্বর দুপুরে আদিতমারী উপজেলা পরিষদের হলরুমে পূর্ব নির্ধারিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দূর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা নিয়ে প্রশ্ন করলে ইউএনও মুনসুর উদ্দিন সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। ঘটনার এক পর্যায়ে অশ্লিল ভাষা ও বাবা মা তুলে গালমন্ধ করে আমাকে। তখন আমি দেখতে পাই সভাকক্ষে সিসিটিভির ক্যামেরার তাঁর ছেঁড়া। বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে দেখতে বললে তিনি (ইউএনও তেড়ে আসেন)। পরে জানতে পারি ইউএনওসহ তাঁর অধিনে থাকা ১৭ জন কর্মকর্তা মিলে আমার বিরুদ্ধে মনগড়া মিথ্যা ও বানোয়াট লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর করেছেন। সভায় ইউএনও সকলের সামনে অশ্লীল ভাষায় বলেন, পাঁচ বছরের জন্য চেয়ারম্যান হয়ে ভাব দেখান নাকি। একবার আমরা ক্ষেপলে সরকারের চেয়ার থাকবেনা। আপনি তো দুই পয়সার উপজেলার চেয়ারম্যান। আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস আরো জানান, আমার পিতা শহীদ সামছুল ইসলাম সুরুজ একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্সসহ ডবল এমএ পাশ করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে ছাত্রলীগের স্বক্রীয় রাজনীতি করে ছিলেন। পরবর্তীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মূখযোদ্ধা হিসেবে লড়াই করেন। দেশ স্বাধীন হলে স্বাধীন দেশের সমৃদ্ধি আনতে সরাসরি তৃণমূলের আওয়ামীলীগের রাজনীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে কয়েক বার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি জেলা আওআমীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তাঁকে ২০০৩ সালের ২২ ডিসেম্বর বিএনপি জামাত জোট সরকারের দূবৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করে। আমার পিতার অকাল মৃত্যুতে আমরা পরিবার অসহায় হয়ে পরি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা মাদার অব হিউম্যানেটি শেখ হাসিনা আমাকে তাঁর কাছে রেখে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেন। আমার শহীদ পিতা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শিক্ষানুরাগী ছিলেন। তাঁর হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদিতমারী সরকারি ডিগ্রী কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই উপজেলায় গড়ে উঠেছে। তিনি জীবদ্ধশায় কখনো পরিবারে ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা ভাবেননি। তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে ষড়যন্ত্র করে প্রতিপক্ষরা হত্যা করেছে। পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে আমি রাজনীতিতে আসি। এটা অনেকে মেনে নিতে পারেনি। এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে উপজেলা চেয়রম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনোয়ন প্রত্যাশি ছিলাম। বাবার কারণে তৃণমূলে আমি ছিলাম জনপ্রিয়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী পরিবারের রোষানলে পড়ে আমার বাবার মত আমাকেও নিঃশেষ করতে ষড়যন্ত্রমূলক দলীয় মনোনোয়ন দেয়া হয়নি। কিন্তু জনগণের দাবির মুখে আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হয়েছিল। এই নির্বাচনে ৪৭ হাজার ভোট পেয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। প্রভাবশালী মহলটি তখন হতে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে আমার বিরুদ্ধে। এই ষড়যন্ত্রের ফসল ডিসির কাছে ইউএনও’র অভিযোগ। উপজেলা চেযারম্যান সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, ইউএনও’র দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাষ্ট্রের অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ দূদুকের চেয়ারম্যানের দপ্তরে কাগজপত্রের প্রমাণসহ আবেদন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক সংবাদ কর্মীদের এই সব দূর্নীতি প্রমাণে বেশ কিছু কাগজপত্রের ফটোকপি সরবরাহ করা হয়। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনসুর উদ্দিন সরকার জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের অশালিন আচরণ করায় জেলা প্রশাসকের কাছে আমিসহ সকল কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছি। যার ফলে উপজেলা চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলন করে নানা মিথ্যা অভিযোগ করেছে। জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর জানান, আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা পাল্টি অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগের বিষয়টি গত রোববার সকালে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রফিকুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র পাল্টা পাল্টি অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে পুরো উপজেলায় তোলপাড় অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে ইউএনও মনসুর উদ্দিন সরকার উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুকের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক জিডি দায়ের করেছেন। এব্যাপারে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জিডি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *