কবিতার নাম ঋণ

কবি সিকানদার কবীর

জন্মেই প্রতিনিয়ত বায়ুমন্ডল থেকে বায়ু করেছি ধার- কে জানে ভূমিষ্ট হয়ে আজ অবধি কতো লক্ষকোটি বার
নিয়েছি শ্বাস ফেলেছি নিঃশ্বাস। দিনে দিনে বেড়েছে দেনা-খাতায় জমেছে অনেক অবিশ্বাস ;
বায়ুমন্ডলের কাছে হয়েছি ঋণী, রয়েছে দেনার ভার
ঋণগ্রস্ত আমি দাঁড়িয়ে আছি আজ মৃত্যুর পার।

জন্মেই মাটির কাছে হয়ে গেছি ঋণী –
জোড় কদম ফেলেছি তার গায় – জড়ায়ে রেখেছে সে
যেনো জননীর কোল নিবিড় মমতায় ; তার বুকে মাথা রেখে দেখেছি আকাশ,হাত ধরে দেখেছি নদী
তপ্ত শরীর ছুঁয়ে গেছে হিমেল বাতাস।মাটিকেই ভেবেছি
মা,ভেবেছি আপন বাড়ি- একান্ত স্বদেশ।তার কাছে
কতো যে ঋণ হিসেবে হয় কী তার শেষ?

জন্মেই বৃক্ষকে জেনেছি ছায়া –
সহস্র ফলে ফুলে লালন করেছে সে যেনো পিতৃসুলভ মায়া।বায়ুতে ছেড়ে নির্মল নিশ্বাস গরল খেয়েছে গিলে
বিশুদ্ধ অক্সিজেনে বেঁচে আছি আজ;
কী করে বৃক্ষের ঋণের কথা যাই ভুলে?

জন্মেই জেনেছি আকাশ দিয়েছে মেঘের ছায়া-দিয়েছে রোদবৃষ্টি ঝড়; বুকে তার ঝুলে থাকা বাবুই পাখির
বাসার মতো চাঁদ সুরুজ নক্ষত্র কোটি তারার ঘর।
তারা আমার নেহাতই আপন, কেউ ছিলো না পর।
বায়ুর কাছে যেমনি ঋণী, আকাশের কাছেও তাই
ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে কোথায় পালাই?

জন্মেই জেনেছি নদী-স্নেহের আঁচলে নিরবধি
দু’পাড়ে পলল বিছিয়ে উর্বর করেছে মাটি।
তার জোয়ারে পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়া খাল- বিল
পুকুর-দিঘি, নিরুদ্দেশে হারিয়ে যায় ভাটি।
তার কৃপায় ক্ষেত থেকে গোলায় ভরেছি ধান
নদীর কাছে কতো যে আমার ঋনের পরিমান!

এতো শতো ঋনের বোঝা কীভাবে করি শোধ
ভেবে লজ্জায় আড়ষ্ট – রুদ্ধ আমার বোধ।
আকাশনদী গ্রহতারা বৃক্ষরাজি, কার সব দান?
তাঁর কাছেই নত শীর-যার সৃষ্টি দো-জাহান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *