ঝালকাঠিতে ইউপি সদস্যকে লাঞ্চিত ও হামলা করার ঘটনায় চেয়ারম্যান মাছুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলাধীন ১নং গাভারামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম শেরোয়ানীর বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান কক্ষে লাঞ্চিত ও তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য মাদক মামলার আসামী (পরিষদের তথ্য সেবাদান কারী) চাচাতো ভাই নোমান শেরোয়ানী কতৃক পথরোধ করে ২নং বিনয়কাঠি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন চুন্নুর উপর হামলার ঘটনায় বিচারের দাবীতে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে গত ০৯ জানুয়ারী একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয় ঝালকাঠি সদর উপজেলাধীন ২নং বিনয়কাঠি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন চুন্নুর অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ১নং গাভারামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম শেরোয়ানী গত ১৭ ডিসেম্বর তার ইউনিয়ন পরিষদে নিজ কার্যালয়ে বিচারের নামে আশিয়ার গ্রামের জুয়েল নামে এক যুবককে তার পিতা, ভাই ও ইউপি সদস্য চুন্নুর সামনে বেধরক মারধর করে। চেয়ারম্যান মাছুম জুয়েলকে মারধর করার সময় জুয়েলের বাবা চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে জুয়েলকে না মারার জন্য অনুরোধ করতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং তাকেও গালাগাল পূর্বক মারধরের হুমকি দেয়। চেয়ারম্যানের এহোন আচারন দেখে ইউপি সদস্য চুন্নু চেয়ারম্যান মাছুম শেরোয়ানীর কাছে তার মামীর মৃত্যুর সংবাদে মাকে নিয়ে মামাবাড়ীতে মামির জানাযায় অংশগ্রহন করার কথা বলে চলে আসার সময় চেয়ারম্যান মাছুম তাকে একটি ষ্ট্যাম্পে স্মাক্ষর দিয়ে যেতে বলে। এ সময় চুন্নু ষ্ট্যাম্পে কি লেখা আছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ফাঁকা ষ্ট্যাম্পের কথা বললে আমি ফাঁকা ষ্ট্যাম্পে স্মাক্ষর দিবে কেন বললে সে পড়ে সব লিখে নিবে বলই আমাকে স্মাক্ষর করানোর জন্য আমার সাথে লোকজনের সম্মুখে অশুভ আচরন করায় আমি আমার মাকে নিয়ে ঘটনা স্থান ত্যাগ করে আমার মামা বাড়ি উজিপুরের উদ্দেশ্যে মটর সাইকেল যোগে রওয়ানা হই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উজিরপুর যাওয়ার পথে ঝালকাঠির সীমান্তবর্তী এলাকা বোর্ড স্কুল ম্যাজিক ষ্ট্যান্ডের কাছে আসলে রাস্তার মধ্যবর্তী স্থানে একজন অপরিচিত লোক আমার চলন্ত মটরসাইকেলের গতিরোধ করে এবং থামিয়ে আমার পরিচয় জানতে চায়। আমি ঐ লোকের কাছে আমার পরিচয় দিয়ে গাড়ী গতিরোধ করার কারন জানতে চাইলে, সে বলে আপনি পরিষদ থেকে একটি মোবাইল নিয়ে আসছেন। আমি পরিষদ থেকে কোন মোবাইল ফোন আনিনি বললেও সে আমাকে চেয়ারম্যানের ভাই নোমান আপনাকে বসতে বলেছে বলে জানায়। আমি আমার মাকে নিয়ে ঐ অপরিচিত লোকের কথায় একটি চায়ের দোকানে বসি এবং তাৎক্ষনাৎ ভাবে জানতে পারি দোকানের মালিকই আমার গাড়ির গতি রোধ করে। কিছুক্ষন পড়ে চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই নোমান এসে আমার মায়ের সামনে আমার সাথে খারাপ আচরন শুরু করে এবং আমাকে দোকান থেকে বের হতে বলে। আমি আমার সাথে থাকা বৃদ্ধ অসুস্থ মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে নোমানের কথায় দোকানের বাহিরে আসলে নোমান আমাকে তার সাথে যেতে বলে। আমি আমার মৃত মামীর জানাযায় অংশগ্রহন করতে যাচ্ছি বলে নোমানকে জানালেও নোমান ও তার লোকজন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল সহ আমাকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন শুরু করে, আমাকে মেরে গুম করার হুমকি দেয়। বিষয়টি ঐ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাগর মাঝি জানতে পেরে সে ঘটনা স্থানে এসে আমাকে ছাড়িয়ে দেয়।

অনুসন্ধানে জানাযায়, ঘটনার দিন ইউপি সদস্য স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানালে সাংবাদিক চেয়ারম্যান মাছুম শেরোয়ানীর চাচাতো ভাই নোমানের কাছে জানতে চাইলে নোমান তথ্য প্রদান করলেও ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম শেরোয়ানীর তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে জানান, আমার পরিষদের বিষয় কোন সাংবাদিককে তথ্য দিবো না বলে সংযোগটি কেটে দেন। স্থানীয় ভাবে খবর নিয়ে জানাযায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলাধীন ১নং গাভারামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম শেরোয়ানী বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ট আত্মীয় হওয়ায় মাছুম শেরোয়ানীর অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না ইউপি সদস্য সহ এলাকাবাসীরা। শুধু তাই নয় প্রভাবশালী নেতার ক্ষমতায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল২০১৯ অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নতুন কমিটিতে এবারও সাধারন সম্পাদক পদটি হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। যারফলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও তার অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য সহ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও চেয়ারম্যান মাছুম শেরোয়ানী বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষমতার অন্তরালে তার ইউনিয়নে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারি কাজ সহ নানা কাজে অনিয়ম ও দূর্নীতি করার অভিযোগ রয়েছে। আর সকল দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে যেন কেউ কোন কথা বলতে না পারে সে জন্যই চেয়ারম্যান রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহারের মাধ্যমে চাচাতো ভাই নোমান শেরোয়ানীকে ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য কেন্দ্রে (তথ্য সেবাদানকারী হিসেবে) নিয়োগ দিয়ে ইউনিয়ন বাসীকে সেবাদানের নামে খুলেছেন দূর্নীতির আতুরঘর। যেখান থেকে নোমান শেরোয়ানী একজন মেয়ের জন্ম সনদ থাকলেও টাকার বিনিময়ে নাম পরিবর্তন করে বয়স কমিয়ে নতুন জন্ম সনদ তৈরি করে দিয়েছেন। চেয়ারম্যান মাছুম তার গড়া বাহীনির সেনাপতি চাচাতো ভাই নোমানের দ্বারা চেয়ারম্যান বাহিনীকে নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্দী ভাতার কার্ড সহ ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আবার অনেকের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আদৌ কার্ড দিচ্ছেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে। চেয়াম্যান মাছুম শেরোয়ানী ইউনিয়নের ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড বিতরনে ইউনিয়নের সুবিধাভোগী কার্ডধারীদের মধ্য যারা বিগত দিনে মৃত্যু বরন করেছেন তাদের নামের কার্ড জমা করে চাল বিতরনে সময় মৃতব্যক্তির নামে স্বাক্ষর দেখিয়ে জালিয়াতি করে চাল আত্মসাৎ করার মাধ্যমে অনিয়ম ও দূর্নীতির অাশ্রয় নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিশেষ প্রকল্পেও অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে নিজ বাড়ীতেই নির্মান সামগ্রী তৈরি করেছেন। দরিদ্রদের ঘর তৈরি সামগ্রী আনতে প্রায় তিন হাজার টাকা দিতে হয়েছিলো। ঘূর্নীঝড় বুলবুলের আঘাতে রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়া সরকারী গাছ বনবিভাগ কর্মকর্তার যোগসাজোগে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধলক্ষাধীক টাকা।

উল্লেখ্য গত বছর (১৭জুন ২০১৯) জেলা প্রশাসক ঝালকাঠি, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ঝালকাঠি, ডিডিএলজি ঝালকাঠি, দূর্নীতি দমন কমিশন বরিশাল ও সাংবাদিকদের অনুলিপি সংযুক্ত করার মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রতিকার চেয়ে ৭ জন ইউপি সদস্য যৌথভাবে একটি অভিযোগ দায়ের করেন যা তদন্তনাধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *