গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে রাজা মেম্বারের বিরুদ্ধে ঈদগাঁ মাঠ উন্নয়নের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

আশরাফুজ্জামান সরকার, গাইবান্ধাঃ-

বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় মসজিদ পরিচালনা কমিটি মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সঠিক জ্ঞানের চর্চা না থাকায় এবং নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মসজিদের কমিটিতে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা যায়। তেমনি একটি সমস্যা সম্বলিত ঢোলভাঙ্গার চক ভগবানপুর জামে মসজীদ ৷

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকভগবানপুর গ্রামে একটি ঈদগাঁ মাঠের উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে।

অভিযোগে প্রকাশ, চক ভগবানপুর গ্রামের ঈদগাঁ মাঠটিতে যাতে গরু ছাগল প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য গ্রামবাসী চারিদিকে প্রাচীর নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয় ৷ অত্র ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রাজা মিয়া গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করেন প্রকল্পের টাকা দিয়ে প্রাচীর নির্মান করে দিবেন।
পরবর্তীতে কয়েক মাস দেখার পরে কোন বরাদ্দ না পেয়ে নিজেদের অর্থায়নেই মসজীদের সীমানা প্রাচীর নির্মান করে গ্রামবাসী। কমিটির সদস্যরা বলেন আসলে সামাজিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির অভিলাষে অনেকে মসজীদ কমিটিতে আসেন ৷ কিন্তুু ইবাদতের ঘর বা আল্লাহর ঘরের টাকা আত্মসাৎ করা এমনটি ভাবাই যায় না ৷

প্রাচীর নির্মান শেষ হলে গ্রামবাসী জানতে পারেন ইউপি সদস্য রাজা মিয়া প্রাচীর নির্মান বাবদ একটি টিআর প্রকল্প বরাদ্দ নেন ৷ উক্ত মেম্বার বরাদ্দকৃত টিআর এর ৫২৭০০ টাকা অবৈধভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে কাউকে না জানিয়ে উত্তোলন করেছে। আর এ কারনেই তার আপন বড় ভাই আব্দুল জলিলকে কাগজে কলমে মসজীদের সভাপতি বানিয়েছে ৷

মসজীদের একজন মুসল্লী জানান, মসজিদ কমিটি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় দায়িত্ব। যে কারও হাতে এ দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া ঠিক না। তাই কাউকে মসজিদ কমিটির জন্য বাছাই করার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হওয়া দরকার- মসজিদ কমিটির দায়িত্ব নেয়ার মতো যোগ্যতা তার আছে কি-না ৷

প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ সম্পর্কে গ্রামবাসী বিষয়টি জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পেয়ে ইউপি সদস্য রাজা মিয়াকে জানালে ইউপি সদস্য রাজা মিয়া বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করতে গ্রামবাসীকে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন জানান, পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে রাজা মেম্বার গ্রুপের একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার আশংকা বিরাজ করছে ৷

বিষয়টির যথাযথ ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বেশ কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *