ভুরুঙ্গামারীতে বন্যার্ত মানষের পাশে দারালেন ট্রিপল সি


সোহেল রানা ভুরুঙ্গামারী প্রতিনিধি ঃ
দেশের উত্তরাঞ্চলের চর এলাকার বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ‘চর চ্যারিটি ফর চেঞ্জ।’ সংক্ষেপে ট্রিপল সি (চর চ্যারিটি ফর চেঞ্জ) সংগঠনটি মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যা সমাজের খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সমাজের দারিদ্র্য বিমোচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে।
প্রায় দেড় বছর আগে কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক এসপি জনাব মেহেদুল করিম এর হাত ধরে জন্ম নেয় ‘চর চ্যারিটি ফর চেঞ্জ।’ চরের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে তৈরি হয় এই সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন ভাবে, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে চরের প্রান্তিক মানুষকে সাহায্য করেছে। তাদের আনন্দ উৎসবে সাক্ষী হয়েছে। বিপদে আপদে ছায়ার মতো পাশে থেকেছে ট্রিপল সি।

সাধারণ সংগঠনের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন বা ব্যতিক্রমী কার্যপ্রণালী এই সংস্থার। অন্যান্য সংগঠন যেখানে নিজেরা সরাসরি ত্রাণ বিতরণ করে। ট্রিপল সি সেখানে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনকেও সাহায্য করে। মূলত, প্রান্তিক মানুষের সহায়তায় নিজেদের সাথে অন্যান্য সংগঠনকে সচল রাখতে এমনটাই করে যাচ্ছে ‘চর চ্যারিটি ফর চেঞ্জ।’

সংগঠন হিসেবে সহযোগিতা পেতে হলে ট্রিপল সি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। অন্যান্য সংস্থার কর্মক্ষমতা এবং দক্ষতার উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণে সহায়তা করা হয়। সংগঠনটির দাপ্তরিক বোর্ডে প্রতি সপ্তাহে জমা পড়ে প্রায় একাধিক আবেদন। তাতে সাড়া পান অনেকেই, করেন সহায়তার তরে গমন।বন্যার্তের পাশে ট্রিপল সি সাংগঠনিক নিয়মানুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানি ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম আবেদন জমা করেন। নিজেদের সংগঠন ‘সত্যের সৈনিক’ থেকে করা আবেদনে (৫০-৫০) সাড়া পান। বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় মোট ৪০টি ‘বন্যা বন্ধু প্যাকেজ’ বিতরণ করেন রাইসুল এবং তার দল। যার মধ্যে নিজেদের সংগঠন, সত্যের সৈনিক, থেকে ২০টি প্যাক এবং ‘চর চ্যারিটি ফর চেঞ্জ’ এর পক্ষ থেকে ২০টি প্যাক প্রদান করেন।

বন্যার্ত মানুষের সহায়তা করতে গিয়ে রাইসুল এশিয়ানবাংলা নিউজ কে বলেন, “চরের এসব মানুষদের দেখলে একটু কষ্টই হয়। অনাহারে অনেকেই দিন কাটায়। সামান্য খাদ্য উপহার লাভে অভুক্ত মানুষগুলোর মুখে ফুটে উঠা মৃদু হাসি নিশ্চয়ই অপরিমেয়। তাদের দোয়া এবং আশীর্বাদ আমাদের আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। আশা করি, উত্তরবঙ্গ তথা চরাঞ্চলের এই মানুষগণ খুব দ্রুতই দারিদ্রতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাবেন।”বন্যার্তের জন্য ‘বন্যা বন্ধু প্যাকেজ’ এর পাশাপাশি করোনাকালীন দুর্যোগে এবং রমজানেও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল ট্রিপল সি। বর্তমানে রংপুর এবং কুড়িগ্রাম জেলায় সংগঠনটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে অচিরেই সমগ্র বাংলাদেশে এর কার্যক্রম ছড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদী সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম।উল্লেখ্য যে, ‘চর চ্যারিটি ফর চেইঞ্জ’ বেশ কয়েকটি কর্মকান্ড সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালনা করে আসছে তার মধ্যে ফিডিং কার্যক্রম, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, সৃজনশীল কার্যক্রম, ডোনেশন কার্যক্রম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *