লালমনিরহাটে সিভিল সার্জনের অনুমতি না পাওয়ায় স্টোর কিপারকে গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ

 
লালমনিরহাট অফিস \ লালমনিরহাটে সাড়ে ৭ লাখ টাকার সরকারি ঔষধ চুরির ঘটনায় সিভিল সার্জনের অনুমতি না পাওয়ায় ৩ স্টোর কিপারকে গ্রেফতার করতে পারছে না থানা পুলিশ। তবে হাসপাতালের সরকারি ঔষধ ক্রয়কারী ৩জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো-শহরের ড্রাইভার পাড়াস্থ মৃত: মমতাজ আলীর পুত্র ঔষধ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক রেজা তার স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন, ভাই ঔষধ ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান ও রেল বাজারস্থ মেট্রো ফার্মেসীর মালিক সরাফত আলী। উল্লেখিতরা সরকারি ঔষধ চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে লালমনিরহাট সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-৬০, তাং:-২৪/৬/২০২০ইং। থানা পুলিশ জানায়, হাসপাতালের সরকারি ঔষধ চুরি করে বিক্রি করা হয়েছে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ড্রাইভার পাড়ার ঔষধ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক রেজার বাসায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকার ঔষধ উদ্ধার করা হয় এবং উক্ত রেজা ও তার স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আব্দুর রাজ্জাক রেজাকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তার দেয়া জবানবন্দীতে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর স্টোর কিপার মাহাবুব আলম, সদরের স্টোর কিপার মোয়াজ্জেম হোসেন মুরাদ, কালীগঞ্জের স্টোর কিপার জাকারিয়াকে মামলায় আসামী করা হয়। এছাড়াও রেজার জবানবন্দি অনুযায়ী মেট্রো ফার্মেসীর মালিকের বাসার মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ সাড়ে ১৪ হাজার টাকার সরকারি ঔষধ ও রাজ্জাকের বাড়ী থেকে ৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ঔষধ উদ্ধার করা হয়। এই সরকারি ঔষধ চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হলেও অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। লালমনিরহাট সদর থানার ওসি (তদন্ত) এরশাদুল আলম জানান, ৩ স্টোর কিপারকে গ্রেফতার করার জন্য অনুমতি চেয়ে লালমনিরহাট সিভিল সার্জনকে একাধিকবার পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি অনুমতি না দেওয়ায় সরকারি ঔষধ চোরদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান। এদিকে বর্তমানে ৭ জন মামলার আসামী হলেও পরবর্তীতে আসামীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে উক্ত কর্মকর্তা জানান। এব্যাপারে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা: নির্মলেন্দু রায় বলেন, স্টোর কিপারদের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা আসলে থানা পুলিশকে জানানো হবে।
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *