ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে কাঠালবাড়িতে হামলা যুবলীগ নেতা বাধন মুমূর্ষু।।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আধিপত্য জানান দিতে এবং একটি রাজনৈতিক পরিবারের বলয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখতে উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বকে স্ব মূলে উৎপাটনের লক্ষ্যে আওয়ামিলীগ ও বিএনপি পরিকল্পিত জোটবদ্ধ হয়ে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে কাঠালবাড়ী ইউনিয়নে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট রাতে উদীয়মান তরুণ যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাধনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভয়াবহ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। মুমূর্ষু বাধন এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ন্যাক্কার জনক এ হামলায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত নাজমুল ও মিন্টুর বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিন্টু মিয়া কাঠালবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক দুলালের ফুফাত ভাই ও অপরজন জেলা জাপা নেতা আব্দুল হকের ভাগিনা ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নাজমুলের নেতৃত্বে পরিকল্পিত হড্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস এ হামলা চালানো হয়।
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঠালবাড়ী ইউনিয়নে। গত ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ৮ টায় কাঠালবাড়ী বাজারের কাছে নারকেলবাড়ীর এক চা এর দোকানে সামনে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী হিসেবে নাজমুল, মিন্টু মিয়া ও জুলফিকার গং-দের আসামী করে গুরুতর আহত মেহেদী হাসান বাধনের মা বাদী হয়ে গতকাল রাতে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন । মামলা নং – ।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, আহত মেহেদী হাসান বাধন প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনারদিন রাতে জাহাঙ্গীর হোসেনের চা এর দোকানে চা খেতে যান ভোলা মিয়া সহ। এরপর তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে উঠার সময় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাধনের পথরোধ করে । এসময় নাজমুল এবং মিন্টু বলে তুই কাঠালবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হতে চাস্, তুই রাস্তা অবরোধ করিস, তোর এতবড় ক্ষমতা, বংশপরম্পরায় কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যানী করে আসছি আমরা, সেখানে তুই চেয়ারম্যান হবি ? “তোকে আজ জানেই মেরে ফেলবো” এ কথা বলেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় মারাত্মক জখম করে। মেহেদী হাসান বাধন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার মৃত্যু হয়েছে ভেবে এলাকা ত্যাগ করে সন্ত্রাসীরা। পরে তার গোঙ্গানি শুনে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ জনিত কারনে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।
বাধনের মা কাঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মর্জিনা বেগম জানান, বাধনের শারীরিক অবস্থা ভাল না। মাথায় জখমের অবস্থা দেখে ডাক্তাররা চিন্তিত। সে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনার পেছনে ইউনিয়নের প্রভাবশালী একটি মহলের হাত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। কিছুদিন পূর্বে করোনাকালে বাধনের নেতৃত্বে ত্রাণ এর দাবীতে রংপুর – কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নবাসী। সড়ক অবরোধ তুলে দিতে উপজেলা নির্বাহীসহ ইউপি চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক দুলাল সেখানে পৌঁছলে উত্তেজিত জনতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ী ভাংচুর করে। ওইসময় দুলাল বাধনকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় এঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন বাধনের মা মর্জিনা বেগম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *