ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি॥ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি ও কলেজের টাকা আত্বসাতের অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর কেবি কলেজের অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।সোমবার ১৯ সেপ্টেম্বর ওই কলেজের গভনিং বড়ির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তক্রমে তাকে বরখাসÍ করা হয়।

জানা যায়,অধ্যক্ষ জালাল উদ্দীন প্রধান হরিপুর কেবি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের লোক দিয়ে গভনিং বড়ি তৈরী করে ইচ্ছেমতো কলেজ চালিয়ে আসছেন।বিনা কারণে কলেজের অর্থ উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানটির তহবিল শূন্য করে ফেলেন।তিনি ওই কলেজের বাংলা প্রভাষক জামাল উদ্দীনকে মৃত দেখিয়ে এমপিও বন্ধ করে দেন।পরবর্তীতে জামাল উদ্ধনি বিষয়টি জানতে পেরে আদালতে মামলা করলে আদালত জামাল উদ্দীনের পক্ষে ডিক্রি দেয়।ওই মামলা পরিচালনার জন্য অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময়ে কলেজের সংরক্ষিত ও সাধারণ তহবিলের প্রায় ২ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন।এদিকে ২০০১ সালে ওই কলেজে রতন কুমার হালদার নামে একজনকে ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে কাগজে কলমে নিয়োগ দেওয়া হয়।ওই শিক্ষক কোনদিন কলেজে না আসলেও অধ্যক্ষ তার নামে এমপিও ধরিয়ে ২৩ মাসে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা নিজে উত্তোলন করে

এ ঘটনায় বর্তমান গভনিং বড়ির সদস্য মোঃ নবাব আলী চলতি বছরের ২০ জুলাই জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যন্সেলর বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন।অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের আদেশক্রমে কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. মোঃ শামসুদ্দীন ইলিয়াস গত ৮ আগষ্ট তারিখে স্বাক্ষরিত এক পত্রে কলেজ সভাপতিকে অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

সে অনুযায়ি কলেজ গভনিং বড়ির সভায় আলোচনা ও সিদ্ধান্তক্রমে ওই অধ্যক্ষকে পরপর দুটি কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়।কিন্তু অধ্যক্ষ জালাল উদ্দীন প্রধান পত্র গ্রহন না করে দিয়ে কমিটিকে তুচ্ছজ্ঞান করেন।এহেন অবস্থায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তক্রমে অধ্যক্ষ জালাল উদ্দীন প্রধানকে চাকুরী হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

কলেজ সভাপতি এ্যাড.সোহরাব হোসেন প্রধান জানান, অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি কলেজের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আব্দুস সামাদকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।বিদায়ী অধ্যক্ষকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট প্রাতিষ্ঠানিক ফাইলপত্র হস্তান্তর করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ জালাল উদ্দীন প্রধান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন