sonali_bank_logo1
ইশরাত জাহান চৌধুরী, মৌলভীবাজার :: কমলগঞ্জ সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার দেবের গ্রাহক হয়রানী, অনিয়ম, দুনীতির অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে প্রমানিত হওয়া সত্তেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ। তারা এ ব্যাপারে ব্যাংকের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সঞ্জয় কুমার দেব বিগত ৩০ জানুয়ারী ২০১৪ সালে সোনালী ব্যাংক লি: কমলগঞ্জ শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই এসএমই লোনসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম-দুনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গ্রাহক হয়রানির অনেক অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ব্যাংকের গ্রাহক উপজেলার আদমপুরবাজারের আনোয়ার হোসেন, ছমরু মিয়া, সিতারা আক্তার তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট এর দুজন কর্মকর্তা বিগত ১০ মে ২০১৫ সালে সরেজমিন তা তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হবার পর সঞ্জয় কুমার দেবকে প্রত্যাহারের একটি সুপারিশ সংক্রান্ত ইমেইল বাংলাদেশ ব্যাংক, সিলেট থেকে মৌলভীবাজার প্রিন্সিপাল অফিসে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু, সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপাল অফিসের একজন পদস্থ কর্মকর্তা উক্ত ব্যবস্থাপককে বাচানোর জন্য উক্ত ইমেইলটি ডাউন লোড করে ইনবক্স থেকে মুছে ফেলেন। এপ্রিল ২০১৬ সালে এ শাখাটি লোকসানে উপনীত হলে ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার দেব বিভিন্ন ছলচাতুরীর মাধ্যমে ভুয়া লাভ দেখিয়ে মে ২০১৬ সালে শাখাটিকে লাভজনক হিসেবে দেখান। মে ২০১৬ সালে সম্পূর্ন নিয়ম বহির্ভূতভাবে শ্রেণীকৃত লোন হিসাবসমুহে প্রায় লক্ষাধিক টাকা সুদারোপ করে অতিরিক্ত মুনাফা দেখানো হয়েছে। সরকারী লেনদেন হিসেবে প্রাপ্ত কমিশনের ওপর শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাট কর্তন না করে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ব্যাংকের সাসপেন্স হিসেব থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন সময়ে ৩০, ৪০, ৫০ হাজার টাকা করে নগদে উঠানোর কয়েকদিন পর উক্ত টাকা জমাও দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন তদন্ত থেকে এ বিষয়গুলো প্রমানিত হয়েছে। ব্যাংকের সাবেক দুজন এজিএম মোঃ নুরুল আলম ও আব্দুল মতিন ব্যাংকের স্বার্থে উক্ত ব্যবস্থাপককে প্রত্যাহারের সুপারিশ করলেও সোনালী ব্যাংক, সিলেট এর জি এম কানিজ ফাতেমা চৌধুরীর অতি পছন্দের লোক হবার কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জানা গেছে- গত ৪ মার্চ ২০১৬ সালে স্থানীয় ওয়েষ্টার্ন হোটেলে অনুষ্ঠিত সোনালী ব্যাংক মৌলভীবাজার অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলনে সোনালী ব্যাংক, সিলেট এর জি এম কানিজ ফাতেমা চৌধুরী উক্ত ব্যবস্থাপকের ভুয়শী প্রশংসা করে অন্যান্য সিনিয়র ব্যবস্থাপকদেরকে সঞ্জয় কুমার দেবের কাছ থেকে ব্যাংকিং দীক্ষা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বক্তব্য রাখেন। আরও জানা গেছে- সোনালী ব্যাংক লিঃ কমলগঞ্জ শাখাটি প্রতিষ্ঠার পর গত এপ্রিলে প্রথম লোকসান করেছে। শাখায় কর্মরত অন্যান্য অফিসাররা ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেননা। কারণ, ইতোপূর্বে তার দুর্ণীতির প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জিএমকে দিয়ে ক্যাশ অফিসার বিধান আচার্য্যকে সিলেটের তাজপুর ও হাসান আহমদকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় বদলী করিয়েছেন। গ্রাহক হয়রানী, অনিয়ম, দুনীতির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার পর শাখা হতে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হলেও রহস্যজনকভাবে উক্ত ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার দেবের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সোনালী ব্যাংক কমলগঞ্জ শাখার গ্রাহকদের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- সঞ্জয় কুমার দেবের খুঁটির জোর কোথায় ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।