Kaligonj Flood Effected Pic

এইচ.এম ইমরান, ঝিনাইদহ থেকে :
ঝিনাইদহ-যশোর সড়কের কালীগঞ্জ উপজেলার বেজপাড়া মোবারকগঞ্জ সুগার মিল (মোচিক) সমবায় ফিলিং স্টেশনের সামনে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে দুইটি অটো-রাইচ মিল। যেখানে রাখা হয়নি কোন পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থা। মিলের ছাই এর কারনে পাশবর্তী খালটি ভরে যাওয়ায় সেখানে পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। এতে বেজপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র ৩০টি পরিবারসহ দুইটি পুকুর বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এই মিলের মালিকরা সরকারি বিধি নিষেধ অমান্য করে সরকারি জায়গাতেই টাকা ও ক্ষমতার বলে গড়ে তুলেছেন অটো-রাইচ মিলের একাংশ। আর তাদের কারনেই জলাবদ্ধতায় পড়েছেন ওই এলাকার ৩০ পরিবার।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রেরিত এক অভিযোগে জানাগেছে, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে বেজপাড়া এলাকার ৩০ টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। অটো রাইচ মিলের মালিক নান্টু সাহা ও জহুরুল ইসলাম মিলের পাশের খালটি ছাই দিয়ে ভরে দিয়েছেন। খালে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারী বর্ষণে এলাকাটি তলিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সেখানকার ৩০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, পাশের দুইটি পুকুরও তলিয়ে গেছে মিল মালিকদের কারনে। কয়েক বিঘা জমি পানিতে ডুবে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা রুশিয়া, রুপভান, জাহানারা, ফুলমতিসহ একাধিক ব্যক্তি জানান এই অটো মিল দুটি চালু হবার পর থেকে একটু বৃষ্টি হলেই তাদের বাড়ি ঘরে পানি উঠে যায়। তারা হাঁস-মুরগি,গরু-ছাগল রান্না-বান্না সবমিলিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদিকে হত দরিদ্র মানুষের মাটির ঘর গুলি ভেঙ্গে যাবার ঝুকি রয়েছে খুব বেশি।
বাকুলিয়া গ্রামের আলাউদ্দিন জানান, অটোমিল দু’টির কারনে তার প্রায় তিন বিঘা জমির ধান তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কয়ারগাছি গ্রামের আহম্মদ আলীর দুই বিঘা, বেজপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর তিন বিঘাসহ একাধিক কৃষকের জমির ধান জলাবদ্ধ হয়ে তলিয়ে গেছে। একই গ্রামের দিন মুজুর কুতুব উদ্দিন জানান, তার প্রায় দশ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। দিনমজুর হাফিজুর জানান, তার বাড়িতে পানি জমে থাকায় গত দুইদিন তিনি কাজে যেতে পারেন নি।
অপরদিকে রেজাইল করিম ও রেজাইল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি জানান, তারা দুইটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেন। কিন্তু অটো মিল দুটির কারনে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই দিনের ভারী বর্ষণে পুকুরের মাছে ভেসে গেছে। এতে তাদের প্রায় ৮ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকটে এক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নান্টু সাহা প্রভাব খাটিয়ে মিলের একাংশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গার উপর নির্মাণ করেছেন।
এ ব্যাপারে শেখ জহুরুল এগ্রোফুড অটো রাইচ মিলের মালিক জহুরুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মোবাইলের রিং বাজলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে ফোনটি বন্ধ করে দেয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
পিপা অটো রাইচ মিল-২ এর মালিক নান্টু সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি পানি সরিয়ে দেবার জন্য ১৫ জন লোক নিয়োগ করেছি। তারা কাজ করছে। লেখালেখির দরকার নেই। আমার ঘরে এসে চা খেয়ে যাও।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, আমার কাছে বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। তিনি বিষয় গুলির খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।