টাকার বিনিময়ে প্রার্থীকে জেতাতে চুক্তি সেই নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত

তাজিদুল ইসলাম লাল, রংপুর

রংপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে এক প্রার্থীকে জয়ী করতে গোপন চুক্তির মাধ্যমে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার নির্বাচন কমিশনের এক আদেশে ওই কর্মকর্তা বরখাস্ত করা হয়। রংপুর সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সপ্তম ধাপে মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নে ভোট হয়। সেই ভোটে হান্নানের বিরুদ্ধে রফিকুল ইসলাম নামের এক সদস্য প্রার্থীকে জিতিয়ে দিতে সাড়ে ৪ লাক টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠে। এঘটনায় গত ২ ফেব্রুয়ারি গোপন পরিকল্পনার একটি অডিও ক্লিপটি ফাঁস হয়। পরবর্তীতে তা ফেসবুক ও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে তখন সর্বত্র শুরু হয় তোলপাড়। এ ঘটনায় ওই দিনেই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশে ওই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক রিলিজ করা হয়।

ওই অডিও ক্লিপে নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্য প্রার্থীর মধ্যে কথোপকথনে শোনা যায়, রফিকুল ইসলাম নামের ইউপি সদস্য প্রার্থীকে জেতাতে ভোটকেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষের লোকজনকে বের করে দেয়া এবং ভোটের আগেই অন্তত ৩শ ব্যালট পেপার সরবরাহের বিনিময়ে টাকা চেয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তা।

এসময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অডিও ক্লিপের মাধ্যমে ওই ইউপি সদস্য প্রার্থীকে বোঝান, যেহেতু নির্বাচন করতে গেলে প্রতিদিনই ১০ হাজার করে টাকা ব্যয় হবে, তাতে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হবে। তাতে নির্বাচিত হওয়ার কোনো গ্যারান্টিও নেই। তাই সেটি না করে, তার সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি করলে তিনি যেভাবেই হোক জিতিয়ে দেবেন। এক্ষেত্রে তিনি গ্যারান্টি হিসেবে জেতাতে না পারলে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শুধু তাই নয়, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে জিতিয়ে দেয়ার কথাও দিয়েছিল নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।

এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের সচিব হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে গত রোববার আব্দুল হান্নানকে বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.