ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই বাংলাদেশে কাজ করছেন ভারতীয় ২৫ চলচ্চিত্র কলাকুশলী। ৩০ অক্টোবর থেকে কক্সবাজারে শুরু হওয়া রাজ চন্দ পরিচালিত যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘ব্ল্যাক’-এ কাজ করছেন তারা। একটি গোপন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, ভারতের দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ও বাংলাদেশের কিবরিয়া ফিল্মসের ব্যানারে নির্মীয়মান এ ছবিতে ভারতীয় ২৫ কলাকুশলী কাজ করছেন, যারা বাংলাদেশ এসেছেন টুরিস্ট ভিসায়।

তবে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই ভারতীয় কলাকুশলীদের কাজ করার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বাংলাদেশের প্রযোজক কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া জানান, ‘ওয়ার্কপারমিট নিয়েই সবাই ছবিতে কাজ করছে। বাংলাদেশ ও ভারতীয় অ্যাম্বাসির অনুমতি নিয়েই আমি কাজ করছি। আমার এত ক্ষমতা নেই যে আমি অবৈধ কিছু করে পার পাব। অবৈধ কিছু করলে আমারই ক্ষতি হবে। ছবিটি আটকে যেতে পারে। আর আরেকটা কথা, যারা বাংলাদেশে কাজ করতে এসেছে তাদেরকে তো আমি বলতে পারি না তারা কোন ভিসায় বাংলাদেশে এসেছে।এটা দুই দেশের অ্যাম্বাসির ব্যাপার।’

তাহলে কেন এই অভিযোগ উঠল এর জবাবে কিবরিয়া বলেন, ‘কিছু মানুষ চাচ্ছে না, আমরা ভালো কিছু করি। যখন ভারতীয় টেকনিশিয়ানদের সান্নিধ্যে এসে আমাদের টেকনিশিয়ানরা অভিজ্ঞতা অর্জন করছে তখন কিছু নেতিবাচক মানুষ এই অগ্রগতি কীভাবে বন্ধ করা যায় তার উদ্যোগ নিয়েছে। যা কখনোই কাম্য নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশি কলাকুশলীরা হরহামেশাই টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে বিভিন্ন দেশে কাজ করে আসছে। কই সেসব দেশের পত্র-পত্রিকায় এসব নিয়ে তো কোনো লেখালেখি হচ্ছে না। এটা আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্রই।’

এদিকে ছবিতে যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠেছে। আর এই অভিযোগ আরো চাউর হয়ে ওঠে যখন ভারতের প্রযোজনা সংস্থা তাদের ইউটিউব চ্যানেলে ছবিটির ট্রেইলার ছাড়া হয়। অভিযোগ, ট্রেইলারে যৌথ-প্রযোজনার কোনো ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ অভিযোগের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে কিবরিয়া বলেন, ‘যৌথ-প্রযোজনার মানে এই নয় যে, সবকিছু সমান সমান হতে হবে। দুই দেশের প্রযোজক তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আর্টিস্ট বা কলাকুশলী কম বেশি হতেই পারে। ব্যবসাটা হবে সমান সমান। আর প্রচারণাও হবে দুই দেশের পৃথক বাজার অনুসারে। সে হিসেবে দেশের বাজারের অনুকূলে ট্রেইলার বা পোস্টার ছাড়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।