Barlekha Keramotnagar Tea Gurden (1)

ইশরাত জাহান চৌধুরী, মৌলভীবাজার ঃ
ভূমিখোকোদের কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে বড়লেখার কেরামতনগর চা বাগান। জায়গার খাজনা দিচ্ছেন বাগান মালিক। আর জায়গার ভোগদখলে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। দিন দিন বেদখল হচ্ছে বাগানের জায়গা। এ সংকট ঘনীভূত হওয়ায় উদ্বিগ্ন বাগান কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নানা অপকৌশলে চা বাগানের জায়গা দখলে মরিয়া। আর হাতছাড়া হওয়া জায়গা পুনঃরুদ্ধারে তৎপর বাগান মালিক পক্ষ। দখল ও উদ্ধার উভয়পক্ষের এমন দৃঢ় মনোভাবে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতংকে রয়েছেন চা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্ধারা। উৎপাদন ও গুনগত মানের দিক দিয়ে দেশের র্শীর্ষ দশের মধ্যে ৪র্থ স্থানে থাকা বড়লেখার কেরামতনগর চা বাগান এখন ধ্বংসের মুখে। অবৈধ দখলদারীত্বে এখন এমনই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই ঐতিহ্যবাহী চা বাগান। বাগান কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায় বড়লেখার মাধবকুন্ড লগোয়া দক্ষিণগুল ও লক্ষীছড়া ফাঁড়ি বাগান নিয়ে কেরামতনগর চা বাগান। কাগজে কলমে বাগানটির মোট আয়তন ২,২২৮ একর। কিন্তু বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে প্রায় ৭শ’একর। এরমধ্যে টি প্লানটেশন আছে মাত্র ৪শ’একর জায়গায়। আর ৩শ’একর জায়গাতে ফ্যাক্টরী, মালিক ও ম্যানেজার বাংলো, শ্রমিকদের বসতবাড়ি, ফিসারীসহ অনান্য। এই ৪শ’একর জায়গার টি প্লানটেশন দিয়েই বাগান পরিচালনা করতে হচ্ছে তাদের। অথচ বছারান্তে ২,২২৮একর জায়গার খাজনা পরিশোধ করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। ইতিপূর্বে আইনী লড়াই শেষে ৮শ’একর জায়গা ভূয়া মালিকদের কবল থেকে কাগজে কলমে পুনঃরুদ্ধার হলে সেখানেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে চা গাছের চারা লাগাতে পারছেন না বলে বাগান কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করছেন। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে বাগান কর্তৃপক্ষের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সুত্রে জানা যায় সম্প্রতি তাদের লিজকৃত ভূমি জবর দখল হয়েছে লক্ষিছড়া চা বাগান এলাকার জেল নং ১১৭ বিওসি মাঠ গুদাম এলাকার ২৫.২০ একর জায়গা। বাগানের ওই জবর দখলকৃত জায়গায় বাগানের লাগানো ২টি টিলার চা গাছের চারা তুলে তাতে ও পাশের জমিতে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওই এলাকার অবৈধ দখলদার মৃত মফজ্জির আলীর ছেলে মখলিছ মিয়া, মৃত তৈয়ব আলীর পুত্র শহীদ মিয়া ও মৃত মত্তাসীন আলীর পুত্র নাজিম মিয়া। একই এলাকার হামিদ মিয়া একটি ৯ একরের টিলা জবর দখল করে বসতঘর করে পুরো টিলায় নানা জাতের গাছের চারা লাগিয়েছেন। কেরামতনগর ৩নং চা সেকশন এলাকার ২৬ একর জায়গা জবর দখলে রেখেছেন আবু সালেহ মোঃ সাদেক নামের এক ব্যক্তি এমন অভিযোগ বাগান কর্তৃপক্ষের। রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত চা শিল্পের কল্যাণে বাগানটিকে এমন বেহাল দশা থেকে উত্তরণে তারা চাচ্ছেন দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।