ফুলবাড়ীতে অপরিকল্পিতভাবে আশ্রয়ন নির্মাণ থাকার মানুষ নাই চর গোরক মন্ডল নতুন আবাসনে  

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম: 

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরক মন্ডলে নদী বেষ্টিত নতুন আবাসনে থাকার মানুষ নাই। ভূমিহীনদের জন্য গড়া এই আশ্রয়ন প্রকল্পটি অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করায় এখনও ফাঁকা পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, আবাসনটি নির্মাণের মাত্র পাচঁ বছরের মধ্যে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চারিদিকে ঘিরে আছে ধরলা নদী। নাই সেখানে নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও যাতায়াতের ব্যবস্থা। সেখানে ৬০ টি পরিবারের জন্য কাঁচা টিনশেড ঘর করা হলেও ফুলবাড়ী উপজেলার মাত্র একটি পরিবার আছেন। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা লালমনিরহাটের সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ধরলা নদীতে সর্বস্ব হারানো ১৬ টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। তারা সকলেই ওই ইউনিয়নের চর ফলিমারি গ্রামের বাসিন্দা। 

আশ্রয়নের বাসিন্দা আজিবর রহমান (৮২), ছফর আলী (৬৫), আব্দুস ছালাম (৬২), জগদীশ চন্দ্র (৩৫) সহ আরো কয়েকজন জানান, তারা সবাই ধরলা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে এই আবাসনে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু চারদিকে নদী ঘেরা ও রাস্তাঘাট না থাকায় ওই এলাকায় কেউ যাতায়াত করে না। এই বদ্ধ চরের মাঝে কোনো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার না থাকায় শিক্ষা ও চিকিৎসার মত মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। বন্যাকালীন সময়ে চারদিকে পানি থৈথৈ করে। তখন শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সেখানে বসবাস করা অনিরাপদ হয়ে ওঠে। চারদিক ফাঁকা হওয়ায় ফলে সামান্য ঝড়ে পড়তে হয় চরম ঝুঁকিতে। প্রতিনিয়ত এরকম নানান সমস্যা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।    

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়ণটির চারিদিকে ধরলা নদী। নদীর মাঝখানের চরাঞ্চলে না করে অন্য কোনো জায়গায় বাস্তবায়ন করলে নদী ভাঙ্গা অনেক ভূমিহীন পরিবার সেখানে আশ্রয় নিত। চলাচলের রাস্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় কেউ সেখানে থাকতে চায় না। ঘরগুলো নির্মাণের পর থেকে অদ্যাবধি কেউ সেখানকার কোনো সমস্যা নিরসনের ব্যবস্থা নেয়নি। তাছাড়া প্রকল্পের কাজ নিয়েও শুরু থেকে নানা অভিযোগ রয়েছে। কাজ এত পরিমাণে নিম্নমানের হয়েছে যেটা বলাই বাহুল্য। সামান্য বাতাসেই ঘরের দরজা জানালা খুলে পড়ে। 

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দীর্ঘ ৮ বছর থেকে এই উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্তের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ন প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ৩৫৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করে ধুধু বালুচরের ৫ একর জমিতে ৬০টি টিনশেড ঘর তৈরি করা হয়। একই বছরের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। ব্যাপক অনিয়মের মধ্য‌ দিয়ে নীতিমালা বহির্ভূত ইচ্ছামত বরাদ্দ করে অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করায় ঘরগুলো এখনও ফাঁকা পড়ে আছে। 

প্রকল্প  সেক্রেটারী সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান (হাবিব) জানান,  প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দূরে রেখে নিজেই নামমাত্র কাজ করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এ কর্মকর্তা। ফলে বসবাসের উপযোগি হয়নি গুচ্ছ গ্রামটি। কেউ আসতে চায়না সেখানে। এছাড়া জমি অধিগ্রহণের টাকা আমাকে কিংবা অন্যদের সঠিকভাবে দেয়া হয়নি। জমির টাকা চাইতে গেলে পিআইও সাহেব দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

আশ্রয়ের ঘর ফাঁকা পড়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নাওডাংগা ইউপি’র চেয়ারম্যান হাছেন আলী বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো সাবেক চেয়ারম্যানের আমলে করা। অপরিকল্পিতভাবে নদী বেষ্টিত একটা দ্বীপ চরের মাঝে হওয়ায় সেখানে কেউ থাকতে চায় না। যেখানে মৌলিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাবে না সেখানে তো কেউ যাইতে চাইবে না। 

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্তের দাবি, গুচ্ছগ্রাম নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করে সঠিক ডিজাইনে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ করা হয়েছে। তবে বসবাস অনুপযোগি হওয়ার বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস জানান, নির্মাণ তার সময়ে না হওয়ায় সে সময়ের অনিয়ম আছে কিনা তিনি জানেন না। ওই গুচ্ছগ্রামে লোকজনদের বাস করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.