হারুন উর রশিদ সোহেল রংপুর
রংপুরের কাউনিয়ার একটি রেল ক্রসিংয়ে গরু বোঝাই নসিমনের সাথে ঢাকাগামী আন্ত:নগর ট্রেনের সংঘর্ষে ৪ গরু ব্যবসায়ী এবং ৭ টি গরু মারা গেছে। এ ঘটনায় আরও ৫ গরু ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সোয়া ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুর কাদের জিলানী জানান, শনিবার রাতে কাউনিয়ার টেপামধুপুর হাট থেকে ৭ টি গরু কিনে ৯ ব্যবসায়ী হারাগাছের মেনাজবাজার ফেরার পথে কুর্শা এলাকার কুটির পাড় মানাসপাড় গার্ডবিহীন রেলওয়ে ক্রসিং পার হচ্ছিল। এসময় রংপুর থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেস ওই রেল ব্রিজে ঢুকে পড়লে ঘটনাস্থলেই ৩ গরু ব্যবসায়ী মারা যান। তারা হলেন হারাগাছ মিনাজ বাজারের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে হাফিজার রহমান (৫৫), খোকা মিয়ার ছেলে মুকুল মিয়া (৪৫) পলামারীচরের আবু বক্কর (৫৭)। আহত অবস্থায় রোববার সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নসিমন চালক রবিউল ইসলাম। এ ঘটনায় আহতরা হলেন, হারাগাছের মেনাজ বাজারের আনেছ আলী (২৯), সিরাজুল ইসলাম (৩২)।
তারা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। নসিমনের পেছনে থাকায় সেলিম, আনারুল ও আলফাজ নামের তিন ব্যবসায়ী লাফিয়ে অক্ষত অবস্থায় বেচে যায় বলেও জানান। মারা যায় ব্যবসায়ীদের ৭ টি গরু।

বেঁচে যাওয়া আনাররুল ইসলাম জানান, ওই রেলক্রসিংয়ে কোন রেলগেট থাকে না। শুধু একটি সাইনবোর্ড আছে। ৪টি গরু ছিল মুকুলের। আর একটি ছিল আমার। বাকি দুটি ছিল সেলিমের। আমরা এসব গরু কোরবানীর সময় বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির জন্য কিনে এনেছিলাম। তিনি বলেন, মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখলাম। এটা বলে বোঝানো যাবে না। আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কাউনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিটুল জানান, ট্রেনটি নসিমনটিকে ছিন্নভিন্ন করে চলে যায়। নসিমনটি ৩ টুকরো হয়ে ৩ জায়গায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিস আসলেও তারা লাশ উদ্ধার ও কিংবা আহতের উদ্ধারে কোন সহযোগিতা করে নি। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও পুলিশ ও এলাকাবাসী লাশ রেল লাইন থেকে উদ্ধার করে পাশে রাখে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।

কাউনিয়া জিআরপি থানার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, ওই রেলগেটে কোন গেটম্যান নেই। সেটা নোটিশ দিয়ে বলা ছিল। ঘটনার সময় পাশে থাকা লোকজন নসিমনটিকে ট্রেন আসতে বলে লাইনে না ওঠার জন্য চিৎকার করলেও ড্রাইভার ক্রসিংয়ে উঠিয়ে দেয়ায় দুর্ঘটনা ঘটে।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফরহাদ হোসেন জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি মর্মান্তিক। এ ঘটনাটি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রংপুর ডিসি রাহাত আনোয়ার জানান, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট একেএম মারফু হাসানকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্টে দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও বিষয়টি আমি গুরুত্বে সহকারে দেখবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন