আব্দুল হাকিম রাজ,মৌলভীবাজারঃ
রাজনগর উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উত্তরভাগ, মনসুরনগর, রাজনগর, মুন্সিবাজার, টেংরা, ফতেপুর ও কামারচাক ইউনিয়নে নারীসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। ফতেপুর ইউনিয়নে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে এক পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থীসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কেশরপাড়া, চানবাগ, চানবাগ চা বাগান, বড়দল, মনসুরনগর ইউনিয়নের মনসুরনগর, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের খঁলাগাঁও, বালিগাঁও, রাজনগর ইউনিয়নের উত্তর ঘড়গাঁও, টেংরা ইউনিয়নের কাছারি, পন্ডিতনগর, রাঙ্গিছড়া, কামারচাক ইউনিয়নের তারাপাশা, একাসন্তোষ এলাকায় নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন- উমেদ মিয়া (২০), সোনারা বেগম (৪৫), কানাই মিয়া (২৮), হাছনা বেগম (৪০), আমারুন বেগম (৪২), লিমন মিয়া (১৭), বাসিক মিয়া (২৫), আশিক মিয়া (২৫), জাহাঙ্গীর (২০), সাবাজ মিয়া (২৩), আছাদ মিয়া (২৬), তেরাব আলী (৫৫), শহীদ মিয়া (৩২), করামত আলী (৩৩), রাসেল মিয়া (২০), সোহেল মিয়া (২৩), শিপু মিয়া (১৭), জাহাঙ্গীর রহমান (৩২), আলিক মিয়া (২৮), আবেদ আলী (২৪), লিকন মিয়া (২৮), জেলি বেগম (১৮), শামা মিয়া (৩৪), মকবুল মিয়া (৪০), দিপন কর (২৮), অনিতা কর (২৫), জয়া রাণী (৪৫), সাথী রাণী মালাকার (৩০), জয়ন্তী রাণী মালাকার (৫০), চরিত্র মালাকার (৬০)। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর রহমান, লিকন মিয়া, উমেদ মিয়া, সোনারা বেগম ও আমারুন বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। অপরদিকে,৭ মে শনিবার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মনিয়ারপার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডং কর্মকর্তা বদরুল আমিন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত মেম্বার প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর এজেন্ট খুরশেদ আলম (২৫) বাহিরে গিয়ে তার প্রার্থীর পরাজিত হওয়ার খবর দিলে তারা আবারো ভোট গণনার জন্য প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে চাপ দেন। তিনি আবারো ভোট গণনায় রাজি না হলে মোহাম্মদ আলী ও তার লোকজন নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে সদর সার্কেলের এএসপি রাশেদুল হক ঘটনাস্থলে যান। এসময় পরাজিত প্রার্থীর লোকজন পুলিশের গাড়িতে ঢিল ছুড়ে ভাংচুর করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পরাজিত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (৪৫), মঞ্জুরুল আলম (২০) ও খুরশেদুল আলমকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ এসল্ট মামলায় জেলহাজতে পাঠায়। এদিকে মামলার খবর শুনে গত কদিন ধরে মুনিয়ারপার ও পার্শ্ববর্তী ফতেপুর গ্রাম পুলিশের ভয়ে পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী জানায়, কয়েকজন দালাল নিরিহ মানুসদের হয়রনীর লক্ষ্যে পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আসছে। মুনিয়ারপার গ্রামের বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন(৫৫) জানান,ঘটনার সময় তিনি মোবাইল টিমের দায়িত্বে থাকা হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের এস,আই আবুল হোসেনকে সাথে নিয়ে উত্তেজিত মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।তিনি না থাকলে তখন পুলিশের উপর মানুসজন আক্রমন চালাত,কিন্তু এত চেষ্টার পর এখন পুলিশ বলছে তিনি ও আসামী। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ পুলিশের এসআই পবিত্র কুমার সিংহ বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনকে আসামী করেছেন। রাজনগর থানার ওসি আব্দুল বাছেদ বলেন, নির্বাচনের দিন পুলিশের গাড়ীতে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।মামলার আই,ও এস,আই আজিজ জানান,ঘটনায় জড়িত কিছু মানুসের নাম আসছে,তবে সত্যাতা যাচাই করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যান্য এলাকায় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হলেও তারা বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।