রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ১৪ দিন ধরে চিকিৎসক শূণ্য অবস্থায় রয়েছে। গত ১০ মে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পপ (পরিবার পরিকল্পনা) কর্মকর্তা মাহফুজুল হক ও একজন মাত্র মেডিকেল অফিসার এহসানুল কবীর দু’জনে একই সঙ্গে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এদিকে চিকিৎসকের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে রবিবার দিবাগত রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ১১জন চিকিৎসকের পদে কর্মরত আছে মাত্র দুইজন। এর মধে স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক ও মেডিকেল অফিসার এহসানুল কবীর। কর্মরত ওই দুই চিকিৎসকও কর্মস্থলে অনুপস্থিত ১৪ দিন। নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক এক কর্মচারী বলেন, বড় স্যার মাসের বেশির ভাগ সময়ই কুড়িগ্রামে থাকেন। অন্যজন থাকেন ঢাকায়। হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চালাচ্ছেন দুইজন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। হাসপাতালের জরুরী, বর্হিবিভাগ ও অভ্যন্তরীন বিভাগে ওই দুইজনই ভরসা হয়ে দেখা দিয়েছে।
শনিবার উপজেলার সীমান্ত ঘেষা বকবান্দা ব্যাপারি পাড়া গ্রামের একই পরিবারের ১৪জন কাঁঠাল খেয়ে অসুস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি হয়। কাঁঠাল খাওয়ার পর থেকে তাদের বমি, পাতলা পায়খানা ও মাথা ব্যথা শুরু হয়। উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অলোক কুমার জানান, খাবারে বিষ ক্রিয়ার ফলে ওই ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে দেড় বছরের শিশু অনন্যা হাসপাতালেই মৃত্যু বরণ করে। শিশুটির পিতা আনিছুর রহমান জানান, বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে আমার সন্তান।
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেডিকেল অফিসার এহসানুল কবীর বলেন, ‘আমি ছুটতে আছি।’ স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমি তো রবিবারেই অফিসে গিয়েছিলাম। এখন অফিসিয়াল কাজে কুড়িগ্রামে আছি।’ তবে হাসপাতালের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, স্যার অফিসে এসেই আবার চলে গেছেন।
কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন জয়নাল আবেদীন চিকিৎসক শুণ্যের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, ‘রৌমারীতে কোনো চিকিৎসকই থাকতে চায় না। পোষ্টিং দেয়ার দিন থেকেই তদবির করে বদলি নিয়ে চলে যায়। হাসপাতাল চিকিৎসক শূণ্য বলা যাবে না কারন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তো রয়েছে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।