লালমনিরহাটে অসময়ের বন্যায় দিশেহারা তিস্তাপাড়ের কৃষক

এস.বি-সুজন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটে অসময়ের বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তিস্তাপাড়ের কৃষক। ভরা চৈত্রে মাষের বন্যায় গ্রামের প্রবাদ বাক্যটি সত্য হয়ে তিস্তা নদীতে হঠাৎ উজানের পানি ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ অংশে। তিস্তা নদীর ডালিয়া ব্যারেজের উজানে ভারত অংশে বৃষ্টি হওয়ায় এই পানি বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অসময়ের এ পানিতে তলিয়ে গেছে তিস্তা অববাহিকার মধ্যেম ও নিম্নাঞ্চল। গত ৫ দিন ধরে হাঁটু পানিতে ডুবে আছে চরাঞ্চলের মৌসুমি পেঁয়াজ,রসুন,মিষ্টি কুমড়া, সহ নানান জাতের উঠতি ফসল।নীলফামারীর তিস্তা সেচ ব্যারেজের ৬টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় নিম্নাঞ্চলে পানি বেড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চরাঞ্চলের কৃষকেরা।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন, গত ৪ দিনে ৮৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি বা আড়াই ফুট পানি বেড়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ১.২০মিটার নীচে অবস্থান করছে। আর কোনো বৃষ্টিপাত না হলে দুই-একদিনের মধ্যে নদীতে পানি কমে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তা নদীতে গিয়ে দেখা গেছে, পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা।

খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাদল জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অনেক জায়গায় ভুট্টা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বাদাম ও সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে কৃষকরা ফসল নিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।

জেলার উপজেলার চর এলাকার উঠতি ফসল কাউন, মরিচ-পেঁয়াজ, মিষ্টি কুমড়া, গম, ধান, তামাক ও ভুট্টাসহ বিস্তীর্ণ চরের দেড় হাজার একর জমির ফসল এখনো পানিতে ডুবে আছে। উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঢুষমারার চর এলাকার কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, চৈত্র মাসে হঠাৎ তিস্তার পানি বেড়ে আমার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আট একর আবাদি জমির ধান, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও বাদাম নষ্ট হয়ে গেছে।

এতে নীলফামারীর জলঢাকা, ডোমার, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালিগঞ্জ, আদিতমারী, লালমনিরহাট সদর, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.