লালমনিরহাটে পুনাক বাণিজ্য মেলার কারণে এলাকায় বাড়ছে চুরি ও মাদক-অভিযোগ এলাকাবাসীর

লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
লালমনিরহাটে পুনাক বাণিজ্যে মেলার নামে হচ্ছে কি! মেলার কারণে এলাকায় বাড়ছে চুরিসহ মাদকের স্বর্গরাজ্যে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাসহ
বঞ্চিত খেলোয়াড়রা। মেলায় নভেল করোনা ভাইরাস সহ ওমিক্রন রোধে নেই কোন স্বাস্থ্যবিধি।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারী থেকে লালমনিরহাট রেলওয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ফুটবল খেলার মাঠে পুনাক বাণিজ্যে মেলা শুরু হয়। পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) ব্যানারে মেলাটি পরিচালনা দায়িত্বে রয়েছেন রংপুরের প্রিন্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নামক একটি প্রতিষ্টান।

উক্ত প্রতিষ্টানটি অবৈধ ভাবে খেলার মাঠ দখল করে মাসের পর মাস খেলাধুলা বন্ধ করে চালিয়ে যাচ্ছেন মেলা। ফলে ঝিমিয়ে পড়েছে খেলোয়াড়বৃন্দ। এ মেলায় ঘুরা ও কেনাকাটার টাকা জোগারে বাড়ছে চুরিসহ মাদক। পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত স্কুল-কলেজ পড়ুয়াসহ কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা প্রকাশ্যে মাইক বাজিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নভেল করোনা ভাইরাস সহ ওমিক্রন রোধে নেই কোন স্বাস্থ্যবিধি।

লোভনীয় অফারে মেলায় যেসব পন্য বিক্রি করা হচ্ছে তা অতিনিম্নমানের। দামেও অনেক বেশি। মেলার ভিতরে যেসব খাদ্য সামগ্রী রয়েছে তা পচা ও বাসিসহ হরেক রকমের রং মিশানো। যা স্বাস্থ্য সম্মত নয়। তাছাড়াও মেলায় যেতে টাকা জোগার করতে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে। মেলা শেষে রাত ১০টার পরে মেলার ভিতরে বসে মাদকের হাট। ফলে মেলার চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে মাদকের বোতল আর বোতল। এসব দেখে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

১২ জানুয়ারী পুনাক বাণিজ্য মেলা শুরু থেকে যেসব বাসা-বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয়েছে। সেসব বাসা-বাড়ি হল, শহরের পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ডের উচাটারী এলাকার সেনাবাহিনীর (অবঃ) কর্মকর্তা রতন সরকারের বাসায় দিনদুপুরে টিন কেটে বাসা লুট চুরি করেন চোরের দল।

পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডের আদর্শপাড়া এলাকার নাপিত রতনের বাসায় দিন দুপুরে চোরের দল ঢুকে সবকিছু চুরি করেন। একই ওয়ার্ডে আরামবাঘ হোটেলের মালিক আজিজুল হকের বাসার সবকিছু চুরি হয়ে যায় এবং ওই ওয়ার্ডের আব্দুল কুদ্দুস মোল্লার বাসাসহ বেশকটি বাসা বাড়ির সবকিছু চুরি হয়।

পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডের যমুনা ক্লিনিকের মালিক আলহাজ্ব এর নবনির্মিত ভবনের রড চুরি হয়। একই ওয়ার্ডের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ইউনুছ আলী ভাড়াটিয়া মেকার সাইফুলের বাসার কোন কিছুই মালামাল রাখেনি চোর।

পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের কলেজ বাজারে শিশু ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পিছনের একটি বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয়েছে। সেখানেও তালা ভেঙ্গে তার বাসা বাড়ির সব মালামাল চুরি করেন চোরের দল।

অপরদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাজারে আজিজুল ষ্টোরের ওয়াল ভেঙ্গে গোডাউন ঘরে ঢুকে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

শহরের ৪নং ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পৌর কাউন্সিলর জানান, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে চোরের দল বেড়িয়ে পড়ে। বাণিজ্য মেলার কারণে এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়ির সুপারিসহ ক্ষেতের আলু চুরি হয়ে যাচ্ছে। মেলাটি বন্ধে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামণা করছি।

ক’জন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা প্রতিদিনে মেলা যেতে টাকা চায়। টাকা না দিলে বাড়ি মালামাল চুরি করেন। বর্তমান দ্রব্যমুল্যের যে উর্দ্ধগতি সংসার চালানো মুশকিল। তার উপর মেলা। সামনে পরীক্ষা, মেলার কারণে তারা কোন পড়াশোনা করছেন না। মেলাটি বন্ধ জরুরী হয়ে পড়েছে।

রেলওয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ফুলবল খেলার মাঠের খেলোয়াড় নিলয় আহমেদ বলেন, আমরা নিয়মিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী ফুটবল খেলার মাঠে খেলাধূলা করতাম। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে পুনাক বাণিজ্য মেলা কারণে ওই মাঠে খেলাধূলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। উক্ত মেলার নামে আমাদের এলাকায় বাড়ছে চুরিসহ মাদক।

এ বিষয়ে পুনাক বাণিজ্য মেলার রংপুরের প্রিন্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পরিচালক আরিফুল ইসলাম আঙ্গুর বলেন, আমরা মেলার নামে কোন অনৈতিক কাজ করছি না। মেলার নামে এলাকায় বাড়ছে চুরিসহ মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রশাসনিক বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.