লোডশেডিং আর লো-ভোলটেজে বোরোর আবাদ নিয়ে শংকায় কৃষক

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:-

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে চলতি বোরো মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং লো-ভোলটেজের কারণে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষক।পানির অভাবে জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন কৃষক। কৃষকদের অভিযোগ প্রায় দুই সপ্তাহ থেকে নাগেশ্বরীর কচাকাটা থানা এলাকার পাচঁটি ইউনিয়নসহ উপজেলার বেশকিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে এই সমস্যা।সারা দিন ও রাতে গড়ে ২ থেকে ৩ ঘন্টা বিদ্যুত থাকলেও ভোলটেজ থাকছেনা। ফলে সেচ যন্ত্র চালু করা যাচ্ছে না। এদিকে পানির অভাবে বোরো আবাদ নষ্ট হওয়ার পথে।কৃষকরা প্রতিদিন স্থানীয় বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করেও ফলাফল পাচ্ছেন না।বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং লো-ভোলটেজের প্রকট সমস্যায় পড়েছে উপজেলার কেদার, কচাকাটা,বল্লভেরখাষ,বেরুবাড়ি, নারায়নপুর ইউনিয়নের কৃষকরা।এই সমস্ত এলাকায় বিদ্যুতের লো-ভোলটেজের কারণে একেবারে বন্ধ রয়েছে সেচ ব্যাবস্থা। বিকল্প ব্যবস্থা বেছে নিচ্ছেন সেচ মালিকরা।

কেদার ইউনিয়নের সাতানা গ্রামের কৃষক ও বিদ্যুত চালিত সেচের মালিক রফিকুল ইসলাম, জানান, তাদের সেরে আওতায় ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।বিদ্যুতের লোডসেডিং আর লো-ভোলটেজের কারণে দুই সপ্তাহ থেকে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না তারা। জমি শুকিয়ে বোরো চারা মরে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। একই ইউনিয়নের বাহের কেদার গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যুত কখন আসে আর কখন যায় টের পাইনা।সারা দিনে একবারও এক সেচযন্ত্র চালু করতে পারিনা।কচাকাটা ইউনিয়নের কৃষক ও সেচের মালিক উজ্জল মিয়া জানান, তার দুটি সেচযন্ত্র নিবন্ধনকৃত। দুটি সেচযন্ত্রে প্রায় ৬০ বিঘা জমি চাষের আওতায় পড়েছে। এখন দুই সপ্তাহ থেকে জমিগুলোতে পানি দিতে পারছি না। আবাদ বাঁচাতে নুতুন করে ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র স্থাপন করতে হচ্ছে। ফলে আমাদের দ্বিগুন খরচ হচ্ছে। বল্লভের খাষ ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, লো-ভোলটেজের জ্বালায় আমরা সাধারণ গ্রাহক অতিষ্ট। আবাদের পাশাপাশি বাড়িতে বিদ্যুত চালিত সবযন্ত্রই অচল হয়ে যাচ্ছে।টিভি,ফ্রিজ,কিছুই চলছে না। কেদার ইউনিয়নের শোভারকুটি গ্রামের হাসান আলী মন্ডল জানান, প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে বিদ্যুত চালিত সেচ যন্ত্র বসিয়েছ এখন সেটা কাজে আসছে না এখন আবার নতুন করে ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র বসাতে হচ্ছে। তা না হলে আবাদ নষ্ট হয়ে যায়। এত টাকা আমরা পাবো কোথায়। পল্লীবিদ্যুত আমাদের পথে বসিয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে জানা যায় এবার উপজেলায় ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১১হাজার ৭৬১ হেক্টর জমির সেচ দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ নির্ভর সেচযন্ত্রে। আর ১১হাজার ৪৯৯ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হবে ডিজেল চালিত সেচযন্ত্রে। উপজেলা বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী উপজেলায় বিদ্যুৎ চালিত সেচ ব্যবস্থার আওতায় গভীর নলকূপের সংখ্যা ১১৯টি, অগভীর নলকূপের সংখ্যা ৩৫৯০টি। উভয় সেচের সুবিধাভোগি কৃষকের সংখ্যা ৩০হাজার ১৮০জন।

জেলার অন্যান্য এলাকার চাইতে কচাকাটা এলাকায় লো-ভোলটেজের পরিমান বেশী হওয়ার কারন হিসেবে দীর্ঘ ১২শ কিলোমিটার লাইন এবং ব্যাপক গ্রহক সংখ্যার ব্যবহার বেশীকে দ্বায়ী করছেন কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষ ।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভূরুঙ্গামারী জোনাল অফিসের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ কাওসার আলী জানান, সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের লো-ভোলটেজ থকবে। তবে কচাকাটায় এর পরিমান বেশী। ওই এলাকায় ২হাজার ২শ বৈধ সেচ যন্ত্র এবং অসংখ্য অবৈধ মিনি সেচ চালু রয়েছে। এছাড়া শেষ প্রান্ত হওয়ায় লোডশেডিং এবং লো-ভোলটেজের অন্যতম কারণ। তবে একমাসের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.