mail.google

ঢাকা প্রতিনিধিঃ

২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে এক বাণীতে বলেছেন, “ ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শ আমাদের পাথেয়।

মহিমান্বিত রজনি পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেছেন, হিজরি চন্দ্রবর্ষের অষ্টম মাস হলো ‘শাবান’। এই মাসটি বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। হিজরতের প্রায় দেড় বছর পর এ মাসেই কিবলা পরিবর্তন হয়; অর্থাৎ পূর্ব কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাসের পরিবর্তে কাবা শরিফ কিবলা হিসেবে ঘোষিত ও নির্ধারিত হয়। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠের নির্দেশনা-সংবলিত অসাধারণ আয়াতটি (সুরা-৩৩ আহজাব, আয়াত: ৫৬) এই মাসেই অবতীর্ণ হয়। হযরত রাসুলে পাক (সাঃ) এই মাসে সবচেয়ে বেশি নফল ইবাদত, নফল রোজা পালন ও নফল নামাজ আদায় করতেন।

এই শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত ১৫ তারিখের রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। শবে বরাত কথাটি ফারসি থেকে এসেছে। শব মানে রাত বা রজনী আর বরাত মানে মুক্তি। সুতরাং শবে বরাত অর্থ হলো মুক্তির রাত। ‘শবে বরাত’-এর আরবি হলো ‘লাইলাতুল বারাত’, তথা মুক্তির রজনী। হাদিস শরিফে যাকে ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী বলা হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশ, ইরানসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ফারসি, উর্দু, বাংলা, হিন্দিসহ নানা ভাষাভাষী মানুষের কাছে এটি ‘শবে বরাত’ নামেই সমধিক পরিচিত। এ প্রসঙ্গে কোরআনে এসেছে উজ্জ্বল কিতাবের শপথ! নিশ্চয় আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি ছিলাম সতর্ককারী, যাতে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এ নির্দেশ আমার তরফ থেকে, নিশ্চয় আমিই দূত পাঠিয়ে থাকি। এ হলো আপনার প্রভুর দয়া, নিশ্চয় তিনি সব শোনেন এবং সব জানেন। তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল এবং উভয়ের মাঝে যা আছে, সেসবের রব।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস শরিফে আছে, হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে মাখলুকাতের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)। ইবনে খুজাইমা হজরত আবু বকর (রা.), হজরত আওফ ইবনে মালেক (রা.) এবং আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৯০, রাজিনন, হাদিস: ২০৪৮; সহিহ ইবনে খুজাইমা, কিতাবুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা: ১৩৬)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা এ রাতে বিদ্বেষ পোষণকারী ও নিরপরাধ মানুষকে হত্যাকারী ছাড়া বাকি সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। (মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল, চতুর্থ খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৬)।

নেতৃদ্বয় বলেন, মাহে রমজান ও সৌভাগ্যের আগমনী বার্তা নিয়ে পবিত্র শবে বরাত আমাদের মাঝে সমাগত। এই মহিমান্বিত রজনি মানব জাতিকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ এনে দেয়।

নেতৃদ্বয় শবে বরাতের এই পবিত্র রজনিতে আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে অশেষ রহমত ও বরকত কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম ঐক্যের প্রার্থনা জানান।

নেতৃদ্বয় বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

তারা পবিত্র শবে বরাত সকলের জন্য ক্ষমা, বরকত, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক আল্লাহর দরবারে এ কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন