সরকারি ইনজেকশন চুরির ক্লু পেলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিনামূল্যের সরকারি ইনজেকশন পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে ক্লু পেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইনজেকশন পাচারে হাসপাতালের সরকারি কর্মচারীসহ মাস্টাররোলে কাজ করা কর্মচারীরা জড়িত বলে হাসপাতালের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) শাহেদা বেগম নামে এক নারীকে ব্যাগভর্তি তিন শতাধিক সরকারি ইনজেকশনসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাকে কুড়িগ্রাম সদর থানায় হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে আটক শাহেদা বেগম ও হাসপাতালের মাস্টাররোলে কাজ করা রাশেদার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক (মেডিসিন কনসালটেন্ট) ডা. মইনুদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে এবং আবাসিক চিকিৎসক ডা. পুলক কুমার রায়কে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদেরকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ইনজেকশনসহ এক নারী আটকের পর তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় মাস্টাররোলে কাজ করা রাশেদা নামে এক কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। এ ছাড়াও হাসপাতালের সরকারি কর্মচারীরা ওষুধ ও ইনজেকশন পাচারে জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ওই সদস্য বলেন, ‘ইনজেকশন ও ওষুধ পাচারের ক্লু পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনা তদন্ত করছে। আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। যেই জড়িত থাকুক আমরা তদন্ত প্রতিবেদনে তার নাম উল্লেখ করবো। জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।’

এদিকে হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদুল্লাহ লিংকন এবং আবাসিক চিকিৎসক ডা. পুলক কুমার রায় ঘটনার পর থেকে ছায়া তদন্ত করছেন। ইতোমধ্যে তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সব ইনচার্জ, সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইনজেকশন পাচারের ঘটনায় কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ডা. পুলক কুমার রায় বলেন, ‘তদন্ত কমিটি হয়েছে। পুলিশও তদন্ত করছে। তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও কিছুই বলা সমীচীন হবে না।’

তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদুল্লাহ লিংকন বলেন, ‘তদন্ত কমিটি শিগগির কাজ শুরু করবে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিকভাবে আমি তো দেখবোই। মাস্টাররোলে কাজ করা এক কর্মচারীর নাম এসেছে। আমাদের (সরকারি) কোনও কর্মচারী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.