ডেস্ক রিপোর্ট
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে কোনোভাবেই আহ্বান জানাতে পারবেন না—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করার ক্ষেত্রে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের জারি করা এক সরকারি চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবমুক্ত রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে প্রচারণা
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রচারণা চালানো হলে তা গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রম গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য, কার্যক্রম বা আচরণ যদি নির্দিষ্ট মতের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে, তবে সেটিও প্রচারণার আওতায় পড়বে।
সচেতনতা কার্যক্রম চালানো যাবে
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে সাধারণ জনগণকে তথ্য প্রদান, ভোট প্রদানের নিয়ম, সময়সূচি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করতে পারবেন। এতে কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া যাবে না—এ বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
ইসি বলছে, ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানো ও গণভোট সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়াই এসব সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ
এই নির্দেশনাটি বিভাগীয় কমিশনার (ঢাকা ও চট্টগ্রাম), রিটার্নিং অফিসার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা) এবং সকল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, গণভোট একটি সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তাই প্রশাসনের সর্বস্তরে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখাই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য গণভোট আয়োজনের পূর্বশর্ত।

