স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম
মোবাইল ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় ছেলে-মেয়েদের পরিচয়, বন্ধুত্ব, প্রেম থেকে বিয়ে—সবই এখন হাতের মুঠোয়। ফলে বিয়ের মধ্যস্থতাকারী ঘটকদের গুরুত্ব আগের তুলনায় কমে গেলেও কদর কমেনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা নিশিকান্ত বর্মন (৬৮)-এর। তিনি এলাকায় পরিচিত ‘বিশ্ব ঘটক’ হিসেবে।
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ঘটকালি পেশায় নিয়োজিত নিশিকান্ত বর্মন। অসংখ্য ছেলে-মেয়ের বিবাহ সম্পাদনে তার ভূমিকা রয়েছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও পেশার প্রতি নিষ্ঠা কমেনি। এখন আর আগের মতো বাড়ি বাড়ি ঘোরা সম্ভব না হলেও মোবাইল ফোনেই তিনি যোগাযোগ রেখে ঘটকালি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাদাসিধে স্বভাব, মানবিক আচরণ ও আন্তরিকতার কারণে তিনি আজও মানুষের আস্থার প্রতীক। আধুনিক যুগের প্রযুক্তিগত বদলে অনেকেই আর ঘটকের সাহায্য না নিলেও নিশিকান্ত বর্মনের প্রতি মানুষের আস্থা আজও অটুট।
তিনি বলেন,
“ঘটকের মাধ্যমে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিলে দুই পক্ষের তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এতে ভুল বোঝাবুঝি কম হয় এবং বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাও কম ঘটে।”
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান—সন্তানদের বিয়ে ঘটকের মাধ্যমে দেখেশুনে সম্পাদন করার জন্য, যাতে ভবিষ্যতে সংসারে অশান্তি বা বিচ্ছেদের সম্ভাবনা কমে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিশিকান্ত বর্মন শুধু একজন ঘটক নন, তিনি একজন বিশ্বস্ত মানুষ। তার হাত ধরে গড়ে ওঠা অনেক সংসারই আজ সফল ও সুখী। প্রযুক্তির যুগেও তার এই অবদান ও জনপ্রিয়তা তাই কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
