এস.এম হোসাইন আছাদ, জামালপুর ॥
জামালপুরে যৌন পীড়ন মামলার আসামী দ্রুত গ্রেফতারসহ মাত্র ১৭ ঘন্টার মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে সদর থানা পুলিশ। জানা যায়- মামলার বাদী মনিকা ইয়াসমিন (২২) গত ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার যৌন পীড়নের অভিযোগ এনে খোরশেদ আলমের নামে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মনিকা ইয়াসমিন জামালপুর সদরের রানাগাছা ইউনিয়নের খড়খড়িয়া গ্রামের এমদাদুল হকে মেয়ে। মনিকা ইয়াসমিনের দায়ের করা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ১০ ধারায় মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করেন জামালপুর সদর থানার এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক। তিনি মামলা দায়েরের ৭ঘন্টার মধ্যেই সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শেরপুরের শ্রীবরদীর ভায়াডাঙ্গার বিলভরট থেকে আসামী মো. খোরশেদ আলম (২৬) কে গ্রেফতার করেন। খোরশেদ আলম বিলভরট এলাকার মো. নুরুল হকের ছেলে। আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করেই থেমে থাকেননি এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক। ৭ ঘন্টার মধ্যেই আসামী গ্রেফতারসহ ১৭ ঘন্টার মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেও নজির সৃষ্টি করেছেন এসআই ছিদ্দিক।

মামলা সুত্রে জানা যায়- আসামী মো. খোরশেদ আলম নারী নির্যাতনকারী, যৌতুক লোভী এবং খারাপ প্রকৃতির লোক। সে বিবাহিত ও সন্তানের জনক কথাটি গোপন রেখে বিগত ২০১৯ সালের আগস্টের ১২ তারিখে মামলার বাদী মনিকা ইয়াসমিনকে রেজিস্ট্রি কাবিনমুলে বিয়ে করে। বিষয়টি জানতে পেরে বাদীনি মনিকা বিগত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখে রেজিস্ট্রি তালাক প্রদান করেন। তালাক প্রদানের পর থেকে মনিকা ইয়াসমিনকে তাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি অব্যাহত রাখেন। ইতিমধ্যেই মনিকা ইয়াসমিন ২০২০ সালের অক্টোবরের ৩০ তারিখে জামালপুর সদরের ফরিদপুর খানবাড়ীর গফুর খার ছেলে জাহিদ হাসানের সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মনিকার নতুন সংসারের কথা জেনেও হুমকি দেয়া বন্ধ করেনি আসামী খোরশেদ আলম। গত ৬ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে মনিকার সাথে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবিগুলো কেটে দেয়া শর্তে দেখা করতে চান খোরশেদ আলম। নতুন সংসারের কথা চিন্তা করে হুমকি থেকে মুক্তি পাওয়ার শর্তে মনিকা দেখা করতে রাজি হন। কিন্তু জামালপুর-শেরপুর ব্রীজের নিচে ফেরীঘাট এলাকায় দেখা করতে গেলে মনিকার সাথে অশালীন কথাবার্তাসহ জোরপুর্বক শরীরের বিভিন্নস্থানে স্পর্শ করেন খোরশেদ। মনিকার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে খোরশেদ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ভুক্তভোগী মনিকা ইয়াসমিন ন্যায় বিচারের আশায় ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *