সিরাজুল হক কুড়িগ্রাম
ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু প্রতি বছর ঈদ যাত্রায় ঘরেফিরা মানুষের এ আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। রাস্তায় রাস্তায় যানজট, বাসে হয়রানি, টিকিট নেই, বাড়তি ভাড়া, পকেটমার, ছিনতাই, ডাকাতি-এসব মিলে হয়রানি আর বিড়ম্বনার অন্ত থাকে না। ঈদ আসলেই ঘরমুখো মানুষকে যেন কষ্ট পোহাতেই হবে। নিস্তার নেই। সুদীর্ঘ ৫৩ বছর ধরেই চলছে এ হয়রানি আর বিড়ম্বনার পথযাত্রার ইতিহাস। কিন্তু ব্যতিক্রম দেখা গেল ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষেত্রে। সরকারের একান্ত সদিচ্ছা আর আন্তরিকতার ফলে সুদীর্ঘ ৫৩ বছরের ঈদ যাত্রায় বিড়ম্বনার রেকর্ড ভেঙ্গে স্বস্তির নতুন ইতিহাস রেকর্ড হয়েছে। ঈদ যাত্রায় ঘরেফিরা মানুষের মাঝে ছিল দারুন স্বস্তি আর আনন্দ। সেনাবাহিনী ও পুলিশের নানামুখি কর্মসূচী গ্রহণ করায় রাস্তায় ছিল না যানজট, টিকিটের বিড়ম্বনা, যাত্রী হয়রানি, বাড়তি ভাড়ার মতো দুর্ভোগ। মানুষ নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পেরে খুব খুশি। রাজধানী ঢাকা থেকে আগত কয়েকজন ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা খুব ভালোভাবেই আসতে পেরেছি। প্রতি বছর ঈদ যাত্রায় যে বিড়ম্বনা পোহাতে হয় এবার আমরা তা বোধ করেনি। এ জন্য আমরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। কুড়িগ্রাম ধরলা সেতু ও এর দু’পাশ ঘুরে দেখা গেছে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল। যানজট নিরসন, অধিক যাত্রী বোঝাই গাড়ি, মোটর সাইকেলে দুইয়ের অধিক আরোহী বহন ইত্যাদি সংকট নিরসনে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। পরিশেষে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদিচ্ছা আর আন্তরিকতা জন্য ধন্যবাদ।
*লেখক কবি ও সাহিত্যিক
