প্রথমবারের মত খানসামা উপজেলায় রপ্তানিযোগ্য মিষ্টি আলুর চাষ

এস.এম.রকি,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
প্রথম বারের মত শস্য ভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় কৃষি বিভাগের সহায়তায় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও রপ্তানিযোগ্য মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪একর জমিতে উপজেলার ১৮ জন কৃষককে ওকিনাওয়া জাতের ও ২ জন কৃষককে মুরাসাকি জাতের মিষ্টি আলু চাষে কাটিং, সার ও আন্তঃপরিচর্যা বাবদ সহায়তা প্রদান করেছে কৃষি বিভাগ।

জানা যায়, স্থানীয় জাতগুলোর চেয়ে নতুন এসব জাতের মিষ্টি আলুর ফলন ভালো এবং খেতেও সুস্বাদু। রং টকটকে লাল হওয়ায় দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়। এজন্য জাপানসহ বিদেশে এসব জাতের মিষ্টি আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

কৃষকরা জানায়, গত কয়েক বছর ধরে বাজারে মিষ্টি আলুর চাহিদা বেড়েছে। ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে মিষ্টি আলুর দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এই কারণে মিষ্টি আলু চাষ করে ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখছেন এই উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের খোদেজা বেগম ও আলতাফুর রহমান বলেন, ৪০ শতক জমিতে মিষ্টি আলু রোপণে খরচ প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ। আর এই জমিতে মিষ্টি আলুর ফলন হয় প্রায় ৬০ মণ। প্রতি মণের বর্তমান বাজার মূল্য ১০০০-১২০০ টাকা। আশাকরি যা বিক্রি করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি রায় বলেন, মিষ্টি আলু চাষাবাদে তেমন একটা খরচ হয় না আর এই ফসলে তেমন রোগ বালাইও দেখা যায় না। তাই এই আবাদে অল্প পুঁজি ও শ্রমে অধিক অর্থ লাভ করা যায়। তাই কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করেই লাভবান হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় বলেন, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন জাতের মিষ্টি আলুর আবাদ সম্প্রসারণে কৃষক পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। কৃষকদের উপকরণ, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ প্রদর্শনী ও কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ দিবস করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রপ্তানিযোগ্য এই জাতের আলু সঠিকভাবে উৎপাদন ও রপ্তানি করতে পারলে কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা উন্মোচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.