নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার গোলেরহাট ফাজিল মাদ্রাসায় বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছিল শুধু একটি আমগাছ কাটার জন্য। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি ও টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গাছগুলো কেটে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বন বিভাগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের পুকুরপাড়ে থাকা বড় আকারের কয়েকটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, কাটা গাছগুলো প্রথমে পুকুরের পানিতে রাখা হয়। পরে সেগুলো বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদ্রাসা মাঠের একটি আমগাছ কাটার জন্য বন বিভাগের লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে একই সময়ে পুকুরপাড়ের চারটি ইউক্যালিপটাস গাছও কেটে ফেলা হয়। এসব গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের কোনো অনুমোদন ছিল না বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট মোঃ মোকছেদ আলী প্রথমে বলেন, সব গাছ কাটার অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে বন বিভাগের অনুমতিপত্রে কেবল একটি আমগাছের অনুমোদনের বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি পরে বলেন, পুকুরে হেলে পড়ায় গাছগুলো কাটা হয়েছে। পরে পরিচালনা কমিটির সভায় বিষয়টি অনুমোদন নেওয়া হবে।
তবে সরকারি সম্পদ কাটার পর অনুমোদন নেওয়ার এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত বিধি অনুসরণ না করলে তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ফেরার সময় কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের বাধা দেন এবং ধারণকৃত ফুটেজ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তাঁরা সফল হননি। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঐদিনই কুড়িগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা সাদিকুল ইসলাম শাহীন বলেন, “গোলেরহাট ফাজিল মাদ্রাসার শুধু একটি আমগাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার কোনো অনুমোদন বন বিভাগ দেয়নি।তিনি আরও জানান”সরকারী অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়াই গাছ কর্তনের ঘটনায় গত ২ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাটা গাছের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে, গাছ বিক্রির অর্থ কোথায় যাবে, সরকারি হিসাব অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ, বন বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অনিয়মের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপুর্না দেবনাথ জানান,সরকারী অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়া গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
