নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ১৩ নং বল্লভেরখাস ইউনিয়নে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থায়নে চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় সিসি রাস্তা নির্মাণ, গাইডওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে। এতে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমেছে ,পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বরাদ্দ । ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে সরকারটারী গ্রামের সিসি রাস্তার মাথা থেকে দক্ষিণে আমিনের বাড়ি পর্যন্ত ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য, ১০ ফুট প্রস্থ ও ৫ ইঞ্চি পুরু সিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের সিসি ঢালাই রাস্তার মোড় থেকে মইনুলের বাড়ি পর্যন্ত ১৬৪ ফুট দৈর্ঘ্য, ১০ ফুট প্রস্থ ও ৫ ইঞ্চি পুরু সিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
অন্য দুটি প্রকল্প হলো ১। নাসির উদ্দিনের বাড়ির উত্তরে থেকেরাস্তার পশ্চিম পাশে গাইড ওয়াল এবং মাটি ভরাট করন সম্পূর্ণ হয়েছে ২। আমিনের বাড়ির উত্তরে রাস্তার পশ্চিম পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজ সম্পুর্ন হয়েছে।
প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেছে ১৩ নং বল্লভেরখাস ইউনিয়ন পরিষদ।কমেছে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগস্থানীয়দের ভাষ্যমতে এলাকাটিতে দীর্ঘদিন পাকা রাস্তা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানি পেড়িয়ে,চলাচল করতে হতো। বিশেষ করে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য হাটবাজারে নেওয়া ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। নতুন সিসি রাস্তা নির্মাণের ফলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নায়েব আলী এবং এলাকাবাসী ইব্রাহিম খলিল হিম, মমিনুল ইসলাম, শামসুল হক ও ছফর উদ্দিন বলেন, “জন্মের পর থেকে এখানে পাকা রাস্তা না থাকায় কৃষিপণ্য হাটবাজারে নিতে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। বর্ষাকালে কাদা ও পানির কারণে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ত। রাস্তা নির্মাণের ফলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।”তাঁরা এ উন্নয়নকাজের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বল্লভেরখাস ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নুর জামাল বলেন, “এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে দুধকুমর নদের পানিতে এলাকার বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে নির্মিত রাস্তার কারণে ৫ থেকে ৮টি গ্রামের প্রায় তিন থেকে চার হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আরও প্রায় ৭৫০ ফুট সিসি ঢালাই রাস্তা নির্মাণ করা গেলে এলাকাবাসী সড়ক যোগাযোগের পূর্ণ সুবিধা পাবে।”
স্থানীয়রা জানান, অবশিষ্ট অংশে রাস্তা নির্মাণ করা গেলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য দ্রুত হাটবাজারে নেওয়া এবং বর্ষাকালে মানুষের চলাচলেও সুবিধা হবে।

