রংপুর প্রতিনিধি.
রংপুর জেলা ও মহানগর এবং রাজশাহীতে বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এবং বগুড়া বিএনপির নেতা জয়নুল আবেদীন চাঁনকে শোকজ করে ‘ফেঁসে গেছেন’ বিএনপির সিনিয়র দুই নেতা। একজন হলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন- নবী খান সোহেল। তাদেরকে এরই মধ্যে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া ধিক্কার জানিয়েছেন। নিজেদের লোকদের নিয়ে কমিটির গঠন,অনৈতিক লেনদেনসহ নানা অভিযোগে এই দুই নেতার প্রতি চরম ক্ষুদ্ধ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। খালেদা জিয়ার তিরস্কারের মুখে পড়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় দলীয় কাজে নিষ্ধিসঢ়;ক্রয় ছিলেন রিজভী আহমেদ।একইসঙ্গে রংপুর-রাজশাহী কমিটি গঠনে দুইজনের সখ্যতা ও সহমত থাকলেও দলীয় প্রধানের তিরস্কারের পর সোহেল-রিজভীর মধুর সম্পর্কে ভাটা পড়েছে। যদিও দুজনের সখ্যতা নষ্টের কথা অস্বীকার করেছেন হাবিব-উন- নবী খান সোহেল।রংপুর এবং রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটি কোনো কাউন্সিল ছাড়া কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়ার পর একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে রিজভী ও সোহেলের বিরুদ্ধে।দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাসহ বেগম খালেদা জিয়ার কাছেও দীর্ঘদিনের বঞ্চিত নেতারকর্মীরা কমিটিতে জায়গা না পেয়ে অভিযোগ- অনুযোগ জানান। নিজ বিভাগ রংপুর সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করলেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহীর কমিটি একেবারেই ভালো হয়নি।’দুই
চধমব ২ ড়ভ ৩বিভাগীয় জেলায় কমিটি গঠন নিয়ে তোপের মুখে থাকা রিজভী আহমেদ আবারো ‘ফেঁসে’ যান বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন চাঁনকে শোকজ করে। গত ২ জুন ওই শোকজ নোটিশে বলা হয়—তিনি (চাঁন) আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়। কৌশলী চাঁন ওইদিনই গভীর রাতে ই-মেইলে বগুড়া থেকে শোকজের জবাব দিতে ছুটে আসেন ঢাকায়। এরমধ্যে চাঁনের শোকজ প্রত্যাহারের দাবিতে বগুড়া বিএনপির চারশ নেতাকর্মী গণপদত্যাগের হুমকিও দেন। অন্যদিকে চাঁন দ্রুততার সাথে বিষয়টি লন্ডনে দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও জানান। তারেক রহমানও এ নিয়ে বেগম জিয়ার সাথে দ্রুত কথা বলেন বলে জানা গেছে।শনিবার সারাদিন দলীয় হাইকমান্ডসহ বেগম খালেদা জিয়ার কাছে বিচার নিয়ে যান জয়নাল আবেদিন চাঁন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাৎক্ষণিক ডেকে পাঠান রিজভী আহমেদকে।বিএনপি সূত্র জানায়, দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সামনে রেখেই বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং জয়নুল আবেদিন চানকে শোকজ নিয়ে রিজভী আহমেদকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া রিজভীকে প্রশ্ন করেন, বিএনপির দূর্গ বগুড়ার রাজনীতি নিয়ে তোমার এত আগ্রহ কেন? রাগান্বিত বেগম জিয়া সেদিন রিজভী আহমেদকে তার কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছিলেন বলেও জানা যায়্ধসঢ়;।সেদিনের পরই অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি হন রিজভী। প্রায় এক সপ্তাহ পর মওদুদ আহমদকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর বেগম জিয়া যখন দেখতে যান তখন প্রথম
চধমব ৩ ড়ভ ৩রিজভীকে আবার প্রকাশ্যে দেখা যায়। এরপর শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে আবারো দলীয় কাজে ফিরে এসেছেন তিনি।এ বিষয়ে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে জয়নুল আবেদিন চাঁন অভিযোগ করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতির প্ররোচনায় তাকে শোকজ করেছিলেন রিজভী।রিজভীকে বকাঝকা করার সময়ে তিনি খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান। চাঁন আরো বলেন, ‘আমি রিজভী ভাইকে বলেছি, আপনার সাথে আমার এত ভালো সম্পর্ক। তাহলে আপনি আমাকে নিয়ে এমন করলেন কেন?’রিজভীকে ‘প্ররোচণার’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।এদিকে শনিবার রিজভী বলেন, ‘মাঝে অসুস্থ ছিলেন। এখন যতক্ষণ দলীয় কাজ থাকে ততক্ষণ কার্যালয়েই থাকেন তিনি।’হাবিব-উন- নবী খান সোহেল দাবি করেছেন রংপুর রাজশাহী জেলা কমিটি নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ নেই।রংপুর রাজশাহী কমিটি এবং চাঁন সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার বিরক্তি প্রকাশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা ওরকম কিছু না। কমিটি হলে অনেক অভিযোগ আসে। যারা পদ পাননি তারা অভিযোগ করেন। বেগম জিয়া তেমন কিছু বলেননি।’ এর বাইরে আর কিছু বলতে চাননি মির্জা ফখরুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *