বরগুনা জেলা সংবাদদাতাঃ
বরগুনা পৌর শহরের খাকদোন নদীর কোল গেসে গরে উঠেছে বরগুনা মাছ বাজার। অনেক দিন আগে থেকে রাগব বোয়ালরা হা করে ছিল এ বাজারের দিকে। তিন বছর আগে সাবেক পৌর মেয়র এ বাজারের এক অংশ নিয়ে গরে তোলে ছিলেন মাছ বিক্রির দ্বীতল ভবন। বাকি অংশ জুরে আড়ৎদার বাজার, এখানে জেলার সকল বড় অনুষ্ঠানের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয় বিক্রয় করা হতো।
সরেজমিনে মাছ বাজারে সোমবার গেলে
মৎস্য আড়ৎদার মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন গত রমজানের সময় সরকারের জমি প্রয়োজন বলে আমাদের স্থাপনা ভেঙ্গে দেয় প্রশাসন। শুধু রমনাজ মাসটা সময় চেয়ে ছিলাম কিন্তু কোন কখা না শুনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় বুল্ডেজার দিয়ে বেঙ্গে দেয়া হয় মাছের আরৎ, আইস ফ্যাক্টরি সহ সকল স্থাপনা। রমজানের সময় ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে কাটিয়েছি। আল্লাহর রহমাতে এক সোনা ডিসিআর পাইছি কিন্তু আজ পর্যন্ত পাইনি দখল। খরচের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আগে আমরা ৪৫ ঘর আড়ৎদার ছিলাম এখন ৭৫ জনকে দেয়া হইছে। বর্তমান মেয়রের লোক পেয়েছে ১০ খান, উপজেলা চেয়ারম্যানের লোক পেয়েছে ৬ খান,নলটোনার চেয়ারম্যান পেয়েছে ১ খান,পনু চেয়ারম্যান পেয়েছে ১০ খান,সাংবাদিক পেযেছে এক খান এই রকম ভাগাবাগি করে নিয়েছে। তিনি বলেন খাকদোন নদীর পারের জায়গা ৮/১২ ফুট ৪ লাখ টাকা, একটু ভিতরে ৬ লাখ, মেইন রাস্তার পাসে ১০ লাখ করে আড়ৎদার সমিতির সভাপতি রফিক সরদার, পনু চেয়ারম্যান সহ চার পাচ জনের মাধ্যমে নেয়া হইছে ডিসির জন্য,শুনছি ডিসি অফিসের নাজির আবদুল্লাহ আল মাসুদ এর মাধ্যমে। ভাই ভাত খাইতে পারি না আমি সুদে টাকা এনে রফিকের কাছে ২ ঘর বাবদ ৮ লাখ টাকা দিছি।
আড়ৎদার রফিক বলেন আমরা বললে জমি ও ঘর পাব না, এখানে কালেক্টরেট মার্কেট হবে।
সহকারী কমিসনার (ভুমি) অফিসের জন্য ২০ হাজর নেয়া হইছে। সাড়ে ৯ হাজার ডিসিার বাবদ নেয়া হইছে।
ভাই ভাই মৎস্য আড়ৎ এর মালিক মোঃ মোস্তফা বলেন আপনার সাংবাদিক আপনাদের কাছে এখন সাক্ষাৎকার দিলে আমরা জমি পাবনা, প্রশাসন ডিসিয়ার দেবে না। আপনাদের আমরা ডাকব, শুনছি বড়িয়াল পাড়ার জাফর সহ অনেকে টাকা দিয়াও ঘর পায় নাই সেই টাকা ৪ লাখ করে ফেরৎ আনার চেষ্টা চলছে। টাকার কথা যানতে চাইলে বলেন ৪/৫ জনে ডিল করছে ডিসি অফিসের সাথে। তিনি আরও বলেন আমাদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করে লাভ হইল কি প্রশাসনের আমি এক জনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকায় এই ভিটি কিনছিলাম ব্যবসার জন্য।
এ বিষয় গৌরিচন্না ইউনিয়ন সহকারী ভুমি (তহসিলদার) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কিছুই জানি না এসিল্যাল্ড জানে।
এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ মোশারফ হোসেন মুঠো ফোনে বলেন বরগুনা থেকে আমি ১০দিন আগে বদলী হয়ে ঢাকা কমিসনার অফিসে যোগদান করেছি, মাছবাজারে ৭৯টি ঘর একসনা বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা সহকারী কমিসনার ( ভুমি) চন্দন কর র নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি নতুন আসছি কিছু জানিনা ডিসি অফিস জানে।
সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা বলেন আমরা জানতে পেরেছি এ বাজার ভাংচুর করে ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে এবং মুখ খুলতে পারছেন তারা, টাকা পয়সার যে গোপন লেনদেন হয়েছে প্রশাসনের উদ্যোগে এই টাকা ফেরত দিয়ে ঋন থেকে ব্যবসায়ীদের মুক্ত করবেন এমন দাবি তাদের। তারা আরও বলেন এর সাথে জড়িত অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা ইতো মধ্যেই বদলী ও দপ্তর পরিবর্তন করে চলছে, এই যোগ সাজসে দেয়া বন্দোবস্ত বাতিল করে বাছবাজারকে মুক্ত করার দাবি অনেকের। বরগুনার সাধারন মানুষের দাবি মধ্যসত্যভোগীদের নিকট থেকে টাকা উদ্ধার ও সঠিক গরীব আড়ৎদারদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত প্রদান। বরগুনার নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাঃ রফিকুল ইসলামের পরোক্ষ তদন্তের দাবি বরগুনা বাসির।
