ভুরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
ভুরুঙ্গামারী কওমী ওলামা পরিষদের সভাপতির পদ ও একটি মসজিদের খতিবের পদ থেকে বরখাস্তের পর অবশেষে মাদ্রাসায় ভুড়িভোজনের আয়োজন করে ছাত্রের পিতার হাত ধরে ক্ষমা নিয়ে গ্রাম্য শালিসে আপোষ মিমাংসা করে আইনের হাত থেকে মুক্ত হলেন ভুরুঙ্গামারী দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি মতিউর রহমান। গত ১০ অক্টোবর
মোবাইলে ওয়াজ শোনার অপরাধে ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক ৩টার সময় শামীম হোসেন মোবাইল ফোনে ওয়াজ শোনার অপরাধে মাদ্রাসার পরিচালক প্রধান শিক্ষক মুফতী মতিউর রহমান শামীমকে তার খাস কামরায় ডেকে নিয়ে তার আরেক সহয়োগী মুফতী সাইফুল্লাহর উপস্থিতিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় বাঁশের বাকলা দিয়ে এলোপাথারী মারপীট করে রক্তাক্ত জখম করায় শরীরের বিভিন্ন স্থান ফেটে রক্ত ঝড়তে থাকে। এ সময় নির্যাতনের শিকার শামীমের আর্তচিৎকারেও মারপীট করতে থাকে ঐ প্রধান শিক্ষক মুফতী মতিউর রহমান। শুধু তাই নয় মারপীটের পর রক্তাক্ত শামীমের নিকট স্ট্যাম্প কেনার টাকা দাবী করলে টাকা দিতে না পারায় আবারও মারপীট চালায় নরপিশাচ মুফতী মতিউর রহমান। পরে নিজেই একটা সাদা স্ট্যাম্প এনে জোর করে স্বাক্ষর নেয় এবং ঘটনা কাউকে বললে মাদ্রাসা থেকে বহিঃস্কারের ভয়ভীতি দেখিয়ে নজরদারীতে রাখেন। এদিকে শামীম হোসেন রক্তাক্ত অবস্থায় সকলের অজান্তে তার এক খালার বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত শরীর দেখান এবং বাড়িতে সংবাদ দিতে বলেন। তার খালা বাড়িতে সংবাদ দিলে তার পিতামাতা এসে শামীমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রকে অমানুষিক মারপীট করে রক্তাক্ত করার ঘটনায় উপস্থিত শত শত জনতা মাদ্রাসা ঘেরাও করে ঐ নরপিশাচ মুফতী মতিউর রহমানের শাস্তি দাবী করে মাদ্রাসার মেইনগেটে অবস্থান নেয়ার সময় পিছনের গেট দিয়ে মুফতী মতিউর রহমান পালিয়ে যায়। ঐ রাতেই নির্যাতনের শিকার শামীম হোসেনের পিতা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মুফতি মতিউর রহমান ও মুফতি সাইফুল্লাহর নামে ভুরুঙ্গামারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে মুফতি মতিউর রহমান গা ঢাকা দেয়। এদিকে ছাত্র নির্যাতনকারী ঐ প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে কিছু সুবিধাভোগী ধর্ণা দিতে থাকে অভিযোগকারী আনোয়ার ও তার আত্মীয় স্বজনের সাথে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য। ইতিমধ্যে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা কওমী ওলামা পনিষদের সভাপতি পদ থেকে ছাত্রকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে কুড়িগ্রাম কওমী ওলামা পরিষদ। পরে গত ২৩ অক্টোবর রাতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির লোকজন ও মুফতি মতিউর রহমান জয়মনিরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ শিংঝাড় গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের মধ্যস্থতায় গ্রাম্য শালিস বৈঠকে মুফতি মতিউর রহমান তার দোষ স্বীকার করায় উপস্থিত শালিসী বৈঠকে শামীমের পিতার হাত ধরে ক্ষমা ভিক্ষা নিয়ে মিমাংসা হয়। পরে ঘটনা মিমাংসায় যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের নিয়ে পরের দিন সকলকে নিয়ে ভুড়িভোজের মাধ্যমে আবারও মাদ্রাসায় আসছেন উক্ত মাদ্রামার প্রধান শিক্ষক মুফতি মতিউর রহমান। এ বিষয়ে শামীমের পিতা আনোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান,আমরা গরীব মানুষ,বিভিন্ন জনের চাপে মামলা রেকর্ড করিনাই। আইন আদালতে গিয়ে তার উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার সামর্থ না থাকায় গ্রাম্য শালিস করে গ্রামবাসী উপযুক্ত বিচার করার আশ্বাস দিলে অবশেষে মিমাংসা হয়েছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *