ফারহানা আক্তার জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
জয়পুরহাট সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলার শিক্ষকদের অভিযোগ, বাতিল হওয়া একটি প্রজ্ঞাপনকে পুঁজি করে বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ড থেকে প্রশ্নপত্র তৈরির নামে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। যেখানে একটি প্রশ্নপত্রের প্রকৃত খরচ ৭ থেকে ৮ টাকা, সেখানে দেখানো হয়েছে কয়েক গুণ বেশি ব্যয়।
দাদড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রশ্নপত্রের প্রকৃত খরচ কম হলেও আমাদের জোর করে ভুয়া ভাউচার দিয়ে হিসাব মেলাতে বাধ্য করা হয়। আসল ভাউচার চাইতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, একজন শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন দুর্নীতি অগ্রহণযোগ্য। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, জেলার ৩৭১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সদর উপজেলার ১০৫টিতেই এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। এটি পুরো প্রাথমিক শিক্ষাখাতের জন্য হুমকি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি মাসুদুল হাসান, তবে গোপন ক্যামেরায় নিজের অনিয়মের দায় স্বীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি করেন, তিনি যা কিছু করেছেন নিয়ম মেনেই করেছেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার পক্ষ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও জেলা শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তদন্ত শেষে যথাসময়ে রিপোর্ট দাখিল করা হবে।
