এশিয়ান বাংলা নিউজ ডেস্কঃ
সম্প্রতি বিদেশে কুকুর রপ্তানির একটি প্রস্তাব প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রাণীপ্রেমী মহলেও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশে প্রশিক্ষিত ও প্রজননযোগ্য কুকুর রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে প্রাণী অধিকারকর্মীরা বলছেন, কুকুর শুধু বাণিজ্যিক প্রাণী নয়, এটি মানুষের আবেগ ও মানবিক সম্পর্কের প্রতীক। তাই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রপ্তানি নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে। সরকার প্রাণী কল্যাণ আইন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি এবং নৈতিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কোনো অবস্থাতেই প্রাণীর প্রতি নির্যাতন বা অবৈধ বাণিজ্য অনুমোদন দেওয়া হবে না।
প্রাণী কল্যাণ সংগঠনগুলো বলছে, বিদেশে রপ্তানির আগে দেশে কুকুরের সঠিক পরিচর্যা, টিকা প্রদান ও প্রজনন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এটি দেশের কুকুর প্রজাতির জন্য হুমকি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, রপ্তানির বিষয়টি যদি আইনগত ও মানবিক মানদণ্ড মেনে বাস্তবায়ন করা হয়। বিশ্ব পরিবেশ সংগঠনের সভাপতি ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই মাষ্টারের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান,বাংলাদেশে বেওয়ারিশ পথ কুকুরের সংখ্যা ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে।প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের দায়িত্বে কুকুরকে প্রতিবছর ভ্যাক্সিন দেয়ার নিয়ম থাকলেও সঠিকভাবে তা দেয়া হচ্ছেনা,অতিরিক্ত প্রজননে কুকুর বেড়ে যাচ্ছে আর প্রতিবছর কুকুরের কামড়ে হাজার হাজার মানুষ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যু বরন করছে। তাই পৃথিবীর যেসব দেশে মানুষ কুকুরের মাংস খায় সে সব দেশে সরকারী ও বেসরকারিভাবে বেওয়ারিশ কুকুর রপ্তানি করলে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে দেশের
এটি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
