কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার সীমান্তবর্তী নারায়ণপুর ইউনিয়নে একটি বাড়ির ধানের গোলা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই কসমেটিকস, পাপড় ও প্যান্ট পিস জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী নারায়ণপুর ইউনিয়নের ঝাউকুঠি গ্রামের আলহাজ জালাল আলীর ছেলে জহুরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ,এস,পি মুন্তাসীর
মামুন মুন এর নেতৃত্বে কচাকাটা থানার এস,আই মিন্টু মিয়াসহ পুলিশের একটি আভিযানিক দল অংশ নেয়।
অভিযানের সময় বাড়ির ধানের গোলার ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস, পাপড় ও প্যান্ট পিস উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম বাড়িতে না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী কচাকাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশে পক্ষ থেকে জানানো হয় কচাকাটা থানার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর ও সংকোশ নদী বেষ্টিত দুর্গম সীমান্ত এলাকা। সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে কাঁটা তারের বেড়া না থাকায় চোরা কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে অবৈধভাবে কসমেটিকস, শাড়ি, প্যান্ট পিসসহ বিভিন্ন পণ্য দেশে এনে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছে।
সহকারী পুলিশ সুপার মুন্তাসীর মামুন মুন বলেন, “নারায়ণপুর ইউনিয়ন নদী ও চরবেষ্টিত সীমান্তবর্তী একটি দুর্গম এলাকা। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরা কারবারিরা এটিকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
জব্দকৃত মালামাল প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজর দারি এবং সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হলে চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

